শুক্রবার ০৬ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ২২ ১৪৩২, ১৭ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

খামেনিকে হত্যায় যুদ্ধ আইনের লঙ্ঘন হয়নি : ইসরাইল খলিলুর ও রিজওয়ানা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জড়িত’ ছিলেন: জামায়াতের তাহের ‘হুজুগে’ পাম্পে পাম্পে তেল কেনার হিড়িক স্কুল ও কলেজের জন্য ‘র‍্যাংকিং সিস্টেম’ হবে: শিক্ষামন্ত্রী ‘দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায়’ ইফতারের জাঁকজমক কমালেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে বিমানবন্দরের রাষ্ট্রাচার সীমিত, থাকবেন শুধু ৪ প্রতিনিধি খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ ঈদে এবার সাত দিনের ছুটি এক মামলায় জামিন পেলেন আনিস আলমগীর ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদ হত্যার রায় ৯ এপ্রিল ৯৬ শতাংশ পুলিশ চায় পুরোনো ইউনিফর্ম নারায়ণগঞ্জে মারামারিতে যুবক খুন, বন্ধু হাসপাতালে ইরানের নতুন কৌশলে নতুন করে হিসাব মেলাতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় পতনের পর এশিয়ার বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত

ইসলাম

ইরানে বিষণ্ণ রমজান ও অনিশ্চিত ঈদ

 প্রকাশিত: ১০:৫২, ৬ মার্চ ২০২৬

ইরানে বিষণ্ণ রমজান ও অনিশ্চিত ঈদ

রমজান মুসলমানের জীবনে আনন্দ ও আনুগত্যের বার্তা নিয়ে আসে। মুসলিম জাতি রমজান মাসে মহান আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় ইবাদত ও আধ্যাত্মিকতা মগ্ন হয়। কিন্তু এবারের রমজান ইরানিদের জন্য বয়ে এনেছে গভীর শোক ও বিষণ্নতার বার্তা। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও ধর্মীয় রাহবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। তিনি ইরান রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাঁর মৃত্যুর শোক গভীরভাবে আচ্ছন্ন করেছে ইরানি জনগণকে। তাঁর মৃত্যুতেই থেমে যায়নি সংঘাত। মুহূর্মুহূ হামলায় কেঁপে উঠছে ইরানের শহরগুলো এবং ইরানিদের অন্তর। পবিত্র এই মাসে যখন তাদের ইবাদতে মগ্ন থাকার কথা ছিল তখন তারা ডুবে আছে নিজেদের ও দেশের ভবিষ্যত নিয়ে।

দীর্ঘদিনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে আগ থেকেই ইরানি অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থা চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি মুদ্রার ব্যাপক দরপতনের কারণে দেশটিতে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছিল। যা ক্ষুব্ধ করেছিল ইরানি জনগণকে। ইরানে চলমান যৌথ সামরিক হামলা ইরানিদের জীবন-জীবিকার দুশ্চিন্তাকে আরো প্রকট করেছে। মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অনেক মানুষ বাসস্থান ছেড়ে নিরাপদ মনে করা অঞ্চলে পালাতে চেষ্টা করছেন, আবার অনেকে ঘরবাড়িতে আটকে আছেন। বিশেষ করে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় তারা স্বজনদের খোঁজ-খবরও পাচ্ছে না। আশঙ্কা রয়েছে, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে জীবন-জীবিকার এই সংকট আরও তীব্র রূপ নেবে।

রমজান মাস সাধারণত ইরানিরা সমাজসেবা, পরিবারিক সম্পর্ক দৃঢ়করণ ও জনকল্যাণমূলক কাজ করতে পছন্দ করেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি তাদেরকে রমজানের চিরায়ত রীতি ও সংস্কৃতি থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির অনাহার আর রমজানের সিয়াম সাধনা একাকার হয়ে যাচ্ছে। আসন্ন ঈদের আনন্দ যেন তাদের দুশ্চিন্তা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ঈদ ইরানিদের কাছে একাকীত্ব ও দুঃখের প্রতিফলন হয়ে আসছে। যুদ্ধ স্থায়ী হলে কত মানুষ স্বজনহারা হয়ে ঈদ উদযাপন করবে। ঈদ হবে তাদের কাছে আনন্দের পরিবর্তে দুঃখের মার্সিয়া।

তেহরানে রমজানের এই অনিশ্চিত সময়ে পূর্ব থেকে চলা পানির সংকট নতুন করে নাগরিক দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও জলাধারের স্তর নেমে যাওয়ার কারণে রাজধানীর বহু এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার সেহরি ও ইফতারের সময় প্রয়োজনীয় পানিও সংরক্ষণ করে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। এই সম্মিলিত সংকট ইরানিদের মানসিক চাপ আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংঘাতের অবসান ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ সুযোগ করার উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক। যাতে ইরানসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের জীবন থেকে শংকা ও অনিশ্চয়তা দূর হয়। আর রমজানের ইবাদত ও ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। 

সবমিলিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরানে রমজান শুধু রোজা ও ইবাদতের নামই নয়, বরং ভয়, অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটের সঙ্গে লড়াইয়ের এক কঠিন পরীক্ষা। যুদ্ধের ছাই-মাখা পরিবেশ ঈদের আনন্দকে শ্রাবণের কালো মেঘের মতো ঢেকে রেখেছে কেবল হতাশা ও বিষণ্নতার ম্লান ছায়া।