শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ১৫ ১৪৩২, ১০ রমজান ১৪৪৭

অর্থনীতি

অর্থবছর ২০২৪-২৫: প্রবৃদ্ধি ৩.৪৯%, পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন

 প্রকাশিত: ১১:২২, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অর্থবছর ২০২৪-২৫: প্রবৃদ্ধি ৩.৪৯%, পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন

চূড়ান্ত হিসাবে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে, যা পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

সাময়িক হিসাবে এ হার প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। সবশেষ হালনাগাদ হিসাবে যা আরও কমে যাওয়ার এ তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

এর আগের অর্থবছরের (২০২৩-২৪) চেয়েও জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার গত অর্থবছরের ছিল বেশ কম। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ, যা ছিল চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে।

কোভিড পরবর্তী অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের মধ্যে চব্বিশের আন্দোলনের প্রভাবেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।

এর আগে কোভিডের আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। এরপর আসে মহামারী। সেই ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে হয় ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে।

এ হিসাবে পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম।

একটি দেশে সারা বছর উৎপাদিত পণ্য ও সেবা মিলিয়ে জিডিপি হিসাব করা হয়।

গত অর্থবছরের শুরুতেই চব্বিশের আন্দোলনে উত্তাল ছিল সারাদেশ। অবরোধ, সংঘাত ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখার ঘটনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছিল, যার প্রভাব পড়ে অর্থনীনতিতে।

ক্ষমতার পালাবদলে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের হাল ধরে। পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে আন্দোলন সংগ্রামের চাপও কমতে শুরু করে। তবে বছরজুড়ে প্রবৃদ্ধিতে এর রেশ দেখা যায়।

 

যে কারণে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয় মাত্র ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এর আগের বছর একই সময়ে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

চূড়ান্ত হিসাবের ভিত্তিতে বিবিএস বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির সঙ্গে বিনিয়োগের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

এদিকে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় গত অর্থবছরে বেড়ে ২ হাজার ৭৬৯ ডলার হয়েছে; যা আগের ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ৭৩৮ ডলার।

বিবিএসের তথ্য বলছে, চূড়ান্ত হিসেবে এক অর্থবছরের ব্যবধানে এ আয় বেড়েছে ৩১ ডলার।

এর আগে মে মাসে সাময়িক হিসাবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮২০ ডলারে মাথাপিছু আয় হওয়ার তথ্য দিয়েছিল সংস্থাটি। সে হিসাবে চূড়ান্ত তথ্যে ৫১ ডলার কমল মাথাপিছু আয়।

এতে করে এখন সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় রয়ে গেল ২০২১-২২ অর্থবছরের ২ হাজার ৭৯৩ ডলার।

মাথাপিছু আয় কোনো ব্যক্তির একক আয় নয়। দেশের অভ্যন্তরের আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্সসহ যত আয় হয়, তা একটি দেশের মোট জাতীয় আয়। সেই জাতীয় আয়কে মাথাপিছু ভাগ করে এই হিসাব করা হয়।