রিকশা চুরি: লক্ষ্মীপুরে পুলিশ-এলাকাবাসী সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চুরির অভিযোগে আটক চার জনকে উদ্ধার নিয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
এর জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর সড়ক অবরোধ করে রাখে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) জামিনুল হক।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দর আলী বেপারী বাড়ির শাহ আলম তার ব্যাটারিচালিত রিকশা রাস্তার ওপর রেখে ইফতার করতে যায়। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই অটোরিকশাটি চুরি হয়।
পরে তিনি আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে স্থানীয়দের সহায়তায় চার সন্দেহভাজনকে আটক করেন। তাদের কাছ থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও চোরেরা ব্যাটারি অন্যত্র বিক্রি করে দেয়।
তাই চার সন্দেহভাজনকে বাড়িতে নিয়ে ব্যাটারির জন্য মারধর করা হয়।
এদিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারা আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এ নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তারা ব্যাটারি না পাওয়া পর্যন্ত আটকদেরকে ছাড়বে না বলে জানায়।
এক পর্যায়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে হামলা-মারামারির ঘটনা ঘটে।
রিকশা চালক শাহ আলম বলেন, “আমরা ব্যাটারি উদ্ধারের জন্য চোরদের আটক করে রেখেছি। পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যেতে চায়। তাদেরকে না দেওয়ায় পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের অন্তত ১৫-১৬ জন আহত হয়েছে।”
পরে নিরীহ নারী-পুরুষের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ এনে লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর সড়কের আঞ্চলিক সড়কের রায়পুরের চৈতাইল্যা দিঘির পাড় এলাকায় অবরোধ করে এলাকাবাসী ।
এ সময় সড়কে রাস্তায় ইট, বাঁশ ও গাছের গুড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা ও অগ্নিসংযোগ করে তারা। প্রায় চার ঘণ্টা চলা এ অবরোধে সড়কের দুই পাশে অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। শতশত যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) জামিনুল হক বলেন, “চারজন চোরকে আটকে মব করা হচ্ছে ৯৯৯ এমন ফোন পেয়ে আমাদের মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে যায়।
“অনেক চেষ্টা করে যখন তাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন পেছন থেকে এলাকাবাসী পুলিশকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে রায়পুর থানা পুলিশের মোতালেব, শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদ আহত হন। তাদের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দিয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
“আটক ৪ সন্দেহভাজন থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। রিকশা চুরির ঘটনায় মালিক মামলা দিলে মামলা নেব। আর পুলিশ আহতের ঘটনায়ও মামলা হবে। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”