বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ২৯ ১৪৩২, ২৩ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

শঙ্কামুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে ‘সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’: প্রধান উপদেষ্টা উৎস ও ব্যবহারের খাত বৈধ হলে ৫ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই: ইসি ভোটকেন্দ্রে যারা নাশকতা করতে আসবে, ঝুঁকি তাদেরই: র‍্যাব ডিজি ভোটে টাকা লেনদেনের তথ্য পেলে ‘ব্যবস্থা নেবে’ র‍্যাব কুমিল্লায় ভোট কেনার অভিযোগে জামায়াত নেতা আটক বিমানবন্দরে আটক জামায়াত নেতার ব্যাগে মিলল ৭৪ লাখ টাকা: পুলিশ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে ইসি অবিচল: সিইসি ভোটে টাকার লেনদেন বন্ধে মোবাইল ব্যাংকিং সীমিত, ভোগান্তি টাকা থাকলেই ধরবে কেন, প্রশ্ন জামায়াতের ‘টাকার ব্যাগ’সহ আটক জামায়াত নেতা অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে ৮ লাখ ৮৩ হাজার পোস্টাল ভোট ভোটের মাঠে ৯ লাখ ১৯ হাজার ফোর্স, সেনা ১ লাখ কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় গোলাগুলিতে নিহত ১০ ইউরোপের প্রতি কৌশলগত খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আহ্বান মাখোঁর

ইসলাম

যেভাবে গুনাহ থেকে মুক্ত থাকব

 প্রকাশিত: ১৭:১৪, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যেভাবে গুনাহ থেকে মুক্ত থাকব

মানুষ স্বভাবগতভাবেই ভুল করে এবং কখনো কখনো পাপে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তবে মনে রাখা উচিত, পাপের দরজা যতই খোলা থাকুক, তাওবা ও আল্লাহর রহমতের দরজা তার চেয়েও বেশি প্রশস্ত। তাই একজন মুমিনের কর্তব্য হলো পাপে পতিত হলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, নিজের ভুল স্বীকার করা এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। কেননা এই মানবিক দুর্বলতার সূচনা আদম (আ.) এর ঘটনাতেই আমরা দেখতে পাই। যখন আল্লাহ তাআলা আদম (আ.) ও তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করে জান্নাতে বসবাসের অনুমতি দিলেন, তখন তিনি তাঁদের জন্য কিছু বিষয় হালাল করেছিলেন এবং কিছু নিষেধ করেছিলেন। এমনকি আল্লাহ তাঁদের জান্নাতের সব নেয়ামত ভোগ করার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, তবে একটি নির্দিষ্ট গাছের নিকটবর্তী হতে নিষেধ করলেন। কিন্তু অভিশপ্ত শয়তান কুমন্ত্রণা দিয়ে আদম (আ.) ও হাওয়াকে প্রলুব্ধ করলো। তার প্রতারণায় তাঁরা আল্লাহর নিষেধ অমান্য করে সেই নিষিদ্ধ কাজটি করে ফেলেন। সেই প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন— ‘হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং যেখানে ইচ্ছা সেখান থেকে আহার করো; কিন্তু এই গাছের নিকটবর্তী হয়ো না, তাহলে তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। অতঃপর শয়তান তাঁদের মনে কুমন্ত্রণা দিল, যাতে তাঁদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ে। সে বলল, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের এই গাছ থেকে শুধু এই জন্যই নিষেধ করেছেন, যাতে তোমরা ফেরেশতা হয়ে না যাও অথবা অমরদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে পড়ো। সে আরও শপথ করে বললো, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উভয়ের জন্য একজন বিশ্বস্ত উপদেশদাতা।’ তখন আল্লাহ তাঁদের ডেকে বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এই গাছ থেকে নিষেধ করিনি? আর কি আমি তোমাদের বলিনি যে শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?’। (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৯-২২)

তখন আদম (আঃ) উপলব্ধি করলেন যে তিনি শয়তানের ধোঁকায় পড়ে ভুল করেছেন এবং গুনাহে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর তাওবা কবুল করলেন এবং ক্ষমা করে দিলেন। এরপর আদম (আ.) ও হাওয়াকে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হলো—আর এখান থেকেই মানবজাতির যাত্রা শুরু হয়।

মানুষ তার স্বভাবগত দুর্বলতার কারণে কখনো না কখনো পাপে লিপ্ত হয়ে পড়ে—এটাই মানব প্রকৃতি। যেহেতু মানুষ স্বভাবতই কামনা-বাসনা ও দুনিয়ার আকর্ষণের প্রতি ঝুঁকে থাকে, তাই যখন কেউ পাপে পতিত হয়, তখন একজন মুমিনের সর্বোত্তম করণীয় হলো, সে যে পাপেই লিপ্ত হোক না কেন, তা পরিত্যাগ করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা এবং নিজেকে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত রাখা। কেনান আল্লাহ তাআলা বলেন— ‘মুমিনদের কথা তো শুধু এটুকুই—যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কাছে ডাকা হয়, তখন তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম এবং আমরা আনুগত্য করলাম। আর তারাই সফল। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর প্রতি সচেতন থাকে—তারাই প্রকৃত বিজয়ী।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৫১-৫২)

মানুষের হূদয় স্থির নয়; দিন ও রাতের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তা কখনো আনুগত্যের দিকে ঝোঁকে, আবার কখনো অবাধ্যতার দিকে ঢলে পড়ে। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেন— ‘এমন কোনো হূদয় নেই যা পরম করুণাময়ের দুটি আঙুলের মাঝখানে নয়। তিনি চাইলে সেটিকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, আর চাইলে বিভ্রান্ত করে দেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৯৯)

তাই রাসুল (সা.) নিয়মিত এই দোয়া করতেন—‘হে হূদয়সমূহের পরিবর্তনকারী! আমাদের হূদয় আপনার দ্বিনের ওপর অবিচল রাখুন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২১৪০)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করা পাপ থেকে বাঁচার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। কেননা নামাজ মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন— ‘তোমার প্রতি যা ওহি করা হয়েছে তা পাঠ করো এবং নামাজ কায়েম করো। নিশ্চয়ই নামাজ অশস্নীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা করো আল্লাহ তা ভালোভাবেই জানেন।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৪৫)

গুনাহ থেকে বাঁচার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো সত্কর্মশীল ও দ্বিনদার মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা। কেননা নেককার সঙ্গী-সাথীরা একে অপরকে আল্লাহর আনুগত্যে উত্সাহিত করে। এ প্রসঙ্গে নবী করিম (সা.) বলেছেন— ‘মানুষ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর দ্বিনের ওপর থাকে। অতএব তোমাদের প্রত্যেকের উচিত ভেবে দেখা—সে কাকে বন্ধু হিসাবে গ্রহন করছে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৩৩)

গুনাহের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর ও ফলপ্রসূ উপায় হলো—নিয়মিত ও আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা তথা ইস্তিগফার পাঠ করা। কেননা ইস্তিগফার একজন মুসলিমের চরিত্র ও আত্মাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। যার দ্বারা বান্দার সঙ্গে তার রবের সম্পর্ক সুদৃঢ় ও গভীর হয়। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন— ‘আমি বলেছিলাম, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতিতে প্রাচুর্য দান করবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য প্রবাহমান নদী তৈরি করবেন।’ (সুরা : নুহ, আয়াত : ১০-১২)

গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য খাঁটি তাওবা অপরিহার্য

একজন মানুষ যদি সত্যিকার অর্থে গুনাহ থেকে বাঁচতে চায় এবং ভবিষ্যতে আর কখনো সেই পাপে ফিরে না আসার সংকল্প করে, তবে তার জন্য আন্তরিক তাওবা অপরিহার্য। তাওবা শুধু মুখে বলা কিছু কথা নয়; বরং এটি হূদয়ের গভীর উপলব্ধি, অনুশোচনা এবং আল্লাহর দিকে সম্পূর্ণভাবে ফিরে আসার নাম। 

আর তাওবা কবুল হওয়ার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—

প্রথমত, তাওবাকারী ব্যক্তিকে তার কৃত গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের জন্য অন্তরে গভীর অনুশোচনা অনুভব করতে হবে। 

দ্বিতীয়ত, তাকে অবিলম্বে সেই পাপ পরিত্যাগ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে তা আর না করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে।

তৃতীয়ত, যদি সেই পাপের সঙ্গে অন্য কোনো মানুষের অধিকার জড়িত থাকে—যেমন কারো সম্পদ, সম্মান বা কোনো ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন করা—তবে অবশ্যই সেই অধিকার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে অথবা তার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এই শর্তগুলো পূরণ করেই একজন বান্দা আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা করতে পারে। আর এমন তাওবাই আল্লাহ তাআলার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এবং বান্দাকে গুনাহের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যায়।