কুমিল্লায় ভোট কেনার অভিযোগে জামায়াত নেতা আটক
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ভোট কেনার অভিযোগে টাকাসহ এক জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে আটক করেছে স্থানীয়রা।
একই দিনে চৌদ্দগ্রামে ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিতরণের অভিযোগে দুই বিএনপি কর্মীকে আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয় দুটি তদন্তের কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার সকালে এ দুটি ঘটনা ঘটে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি ঘটনাগুলো তদন্ত করবে এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।”
আটক জামায়াত নেতার নাম হাবিবুর রহমান হেলালী; তিনি মুরাদনগর উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বুধবার সকালে মুরাদনগর উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামতকান্দি এলাকায় ভোট কেনার অভিযোগে টাকাসহ জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান হেলালীকে স্থানীয় জনগণ আটক করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, স্থানীয় লোকজন জামাত নেতাকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সহকারী কমিশনার ভূমি) তাকে থানা হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, “যেহেতু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করেননি, তাই বিষয়টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে উপস্থাপন করা হবে।”
মুরাদনগর থানার ওসি হাসান জামিল বলেন, আটক জামায়াত নেতা মাওলানা হাবিবুর রহমান হেলালী এই মুহুর্তে পুলিশ হেফাজতে আছেন। প্রশাসনের নির্দেশনা মতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের গুণবতী ইউনিয়নে ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিতরণের অভিযোগে আবদুল মান্নান ও ফকির মেম্বার নামে দুই বিএনপি কর্মীকে স্থানীয় জনগণ আটক করে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন বলেন, “ঘটনা শুনে আমরা সেখানে পুলিশ পাঠাই। কিন্তু তাদের ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তাদেরকে না পেলেও বিষয়টি ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে জানানো হয়েছে; তারা ব্যবস্থা নেবেন।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ওই দুই বিএনপি কর্মীকে ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিতরণের সময় স্থানীয়রা আটক করে। পরে তারা স্থানীয়দের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ করে সেখান থেকে চলে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, “ঘটনাটি মীমাংসার মাধ্যমে শেষ হওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিল। তবে আমরা বিষয়টি জানার পর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আমরা একটি অভিযোগ দেই এবং সেখানে নিয়োজিত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্যাটরা অভিযোগের প্রেক্ষিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।”