ইরান দলকে বিশ্বকাপে ‘স্বাগত জানাবেন’ ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে বিমান হামলা চালাচ্ছে ইরানে, এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোয় থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা করছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান জাতীয় দল কি আসছে বিশ্বকাপে সেখানে খেলতে যাবে, অথবা যুক্তরাষ্ট্রের মাটি কি তাদের জন্য নিরাপদ থাকবে?-এমন অনেক প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে। এ প্রসঙ্গে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনান্ড ট্রাম্প ইরান দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানাবেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানে অতর্কিত হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তা প্রাণ হারান। সেই থেকে প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলসহ আশেপাশে দেশগুলোয় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাচ্ছে ইরান।
এই যুদ্ধ থামার কোনো আভাস মিলছে না। বরং দুই পক্ষের আগ্রাসী কথাবার্তা, হুমকি-পাল্টা হুমকি সময়ের সঙ্গে বাড়ছে। ইতোমধ্যেই এর প্রভাব জোরালভাবে পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনে। মধ্যপ্রাচ্যে বিমান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ায় সম্প্রতি শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অনেক দল সময়মতো তাদের দেশে ফিরতে পারেনি।
কিছুটা হলেও শঙ্কা তৈরি হয়েছে আসছে ফুটবল বিশ্বকাপের স্বাভাবিক আয়োজন নিয়ে। যদিও ফিফার পক্ষ থেকে সব সংশয় উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এক্ষেত্রে সংশয়ের মূল জায়গাটা আসলে ৪৮ দলের বিশ্বকাপের একটি ইরানকে নিয়ে। এবারের আসর হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে। তবে ইরানের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচই হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে। বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে তারা কি যাবে ‘শত্রু’ দেশটিতে খেলতে?
কিছুদিন আগে দেশের গণমাধ্যম পলিটিকোয় বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তীর্যক মন্তব্য করেন ট্রাম্প। বলেন, “ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি একদমই ভাবছেন না, কারণ দেশটি ‘খুবই বাজেভাবে পরাস্ত একটা দেশ।”
তবে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো আবার অন্য কথা শোনালেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানালেন, বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং ইতিবাচক সমাধানও মিলেছে।
“আমরা ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছি এবং বিষয়টা হলো, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইরান।”
“ওই আলোচনায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে এই টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপে) অবশ্যই ইরান দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।”
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, সেটা স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে বিশ্বকাপ বড় একটা উপলক্ষ হতে পারে বলেও বিশ্বাস করেন ইনফান্তিনো।
“পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান ফিফা বিশ্বকাপের মতো একটা ইভেন্ট আরও বেশি দরকার সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং আমি আন্তরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে তার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। এটা আবার দেখাচ্ছে যে, ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করে।”
টানা চতুর্থবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার হাতছানি ইরানের সামনে।
আগামী ১৫ জুন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর কথা ইরানের। ‘জি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিশর।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হয়, তাহলে আগামী ৩ জুলাই শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দল দুটি