শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬, আষাঢ় ৫ ১৪৩৩

ব্রেকিং

পটিয়ায় প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে খুন করা হয় শিশু জায়ানকে, ধারণা পুলিশের প্রথম শ্রেণির ভর্তিতে ‘নামমাত্র’ পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী মামুনুল হক নিয়ে বক্তব্য বাদ, ‘অন্ধকার অংশ’ সংসদের আলোচনায় চান না স্পিকার আট স্টলপোর্টকে বিমানবন্দরে রূপান্তরের উদ্যোগ স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান ‘যার যার ধর্মীয় রীতিতে’ ১৩৩৪৪ জন জুলাই যোদ্ধাকে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে: মন্ত্রী একদিনে হাম সন্দেহে পাঁচ জনের মৃত্যু ভারি বৃষ্টি: কয়েক জেলায় নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আভাস ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর কমল তেলের দাম সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে ‘হামাসের তৎপরতা রয়েছে’, দাবি ইসরায়েলি দূতের মুন্সীগঞ্জে বাড়ির উঠানে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, মোটরসাইকেলে আগুন কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে কোনো এইচএসসি পরীক্ষার্থী নেই চুক্তি লঙ্ঘন করলে ইরানে ‘ভয়াবহ বোমা হামলার` হুমকি ট্রাম্পের অবশেষে যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা স্মারকে সই করল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ফিচার

বাজিতপুর শিকলে বাঁধা ‘সুস্থ’ ছেলে, দেড় মাস পর ‘কঙ্কাল’ পেলেন বাবাা-মা

 আপডেট: ২২:৫৯, ১ জানুয়ারি ২০২২

বাজিতপুর শিকলে বাঁধা ‘সুস্থ’ ছেলে, দেড় মাস পর ‘কঙ্কাল’ পেলেন বাবাা-মা

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরিষাপুর এলাকায় চুরিচামারি করতেন ২৫ বছর বয়সী অভি মিয়া। কোনো একটা অপরাধ ঘটিয়েই ছাড়তেন গ্রাম। কিছুদিন পর ফের হাজির হতেন। তবে হঠাৎ একদিন বাড়িতে হাজির হন রক্তাক্ত শরীরে। এরপর ঘুপচি ঘরে ছেলেকে শিকলে বেঁধে তালা লাগিয়ে রাখেন বাবা। এভাবেই দেড় মাস বন্দি রাখা হয়।
টানা দেড় মাস বেঁধে রাখলেও নিয়মিত খাবার দেননি সৎ মা। খোলেননি দরজাও। দিনের পর দিন খাবার না পেয়ে কঙ্কালসার হয়ে পড়েন অভি। খেতে না দিয়ে শেষমেশ ছেলের ‘কঙ্কালসার’ লাশ পেলেন বাবা-মা।

ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরিষাপুর গ্রামের। শুক্রবার দরজা খুলতেই তার মরদেহ দেখেন স্বজনরা। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভি মিয়া একই গ্রামের রেলওয়ে পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মো. অহিদ মিয়া ও সৎ মা নারগীস বেগম দম্পতির ছেলে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিকে বন্দি রাখলেও ঠিকমতো খাবার দেননি বাবা-মা। এভাবে তালাবদ্ধ করে ফেলে রাখলেও ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি তারা। ফলে ক্ষুধা আর চিকিৎসার অভাবে ছেলেটি মারা যান।

পুলিশ জানায়, শনিবার কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হবে। এ খবর পেয়েও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরেজমিন পরিদর্শনে না যাওয়ায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।

বাজিতপুর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, অভিকে খাবার খেতে না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভি অবহেলা ও তাচ্ছিল্যজনিত মৃত্যুর শিকার হলে এর দায় বর্তাবে পরিবারের ওপর। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মো. অহিদ মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান অভি। অভির মায়ের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর তিনি লাপাত্তা। নারগীস বেগম মো. অহিদ মিয়ার তৃতীয় স্ত্রী।

এদিকে,অভির বাবা মো. অহিদ মিয়া জানান, অতিষ্ঠ হয়েই তিনি ছেলেকে তালাবদ্ধ করে রেখেছিলেন। ঠিকমতো খাবার না দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অভি খেতে পারত না।’ অভির সৎ মা নারগীস বেগমও একই কথা বলেন।