স্পট মার্কেট থেকে আরো ২ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার
ইরানের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান অস্থিতিশীলতার মধ্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে স্পট মার্কেট থেকে আরো দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে যাচ্ছে সরকার।
বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এলএনজি কেনার প্রস্তাবে সায় দেয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
রোজার ঈদের আগে সবশেষ ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায়ও তিন কার্গো এলএনজি কেনার সায় মেলে।
তখন দুই কার্গো দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি থেকে এবং একটি যুক্তরাজ্যের কোম্পানি থেকে কেনার সিদ্ধান্ত ছিল; এবার দুই কার্গোই কেনা হচ্ছে যুক্তরাজ্যের কোম্পানি থেকে।
বৈঠক শেষে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কম মূল্যে’ স্পট মার্কেট থেকে এই এলএনজি কেনা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত সভায় অনুমোদিত যুক্তরাজ্যের এক কার্গো এলএনজি কেনায় যে পরিমাণ খরচ হয়েছিল তার তুলনায় এবার প্রায় ৭৪ কোটি টাকার মতো কম খরচ হচ্ছে।
কোরিয়ার কোম্পানি থেকে কেনার হিসাবের সঙ্গে তুলনা করলেও এটি প্রায় ৪০ কোটি টাকার মতো কম।
তখন যুক্তরাজ্যের কোম্পানি থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনায় খরচা ধরা হয়েছিল ৯০৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা; কোরিয়ার কোম্পানি থেকে কেনায় এ খরচ ছিল ৮৭৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
এবার যুক্তরাজ্যের কোম্পানি থেকে প্রতি কার্গো এলএনজি কেনা হচ্ছে ৮৩৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকায়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করায় জরুরি ভিত্তিতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
চলতি মাসের শুরুতে দেশের জ্বালানি মজুদ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে জ্বালানি বিভাগ। তখন তিনি এ নির্দেশনা দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসেই স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেয় জ্বালানি বিভাগ।
এদিন ক্রয় কমিটির বৈঠকের পর মন্ত্রিসভার বৈঠক থাকায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার কথা থাকলেও তা করেননি। গত বৈঠকটি জুমে তিনি অংশ নেওয়ায় ওই ব্রিফিংটিও হয়নি।
পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দুই কার্গো এলএনজি কেনার বিষয়টি ক্রয় কমিটিতে অনুমোদন করার কথা জানায়।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপটে কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত কার্গো আনার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পরে এ বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে প্রধানমন্ত্রীর তরফে।
এদিন ১ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন, ইপিআই কার্যক্রমে ব্যবহৃত ভেকসিন সরাসরি ইউনিসেফ থেকে অগ্রিম অর্থ দিয়ে ক্রয় এবং ৩০ হাজার টন ব্যাগডগ্র্যানুলার ইউরিয়া আমদানির সিদ্ধান্তে সভায় সায় মেলে।