অস্ট্রেলীয় প্রশিক্ষিত কুকুরের অবসর
অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রশিক্ষিত কুকুর এক দশকের সেবা শেষে অবসরে যাচ্ছে। কুকুরটি একশ’র বেশি কোয়ালার প্রাণ বাঁচানোর কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
বিয়ার নামের ১১ বছর বয়সী একটি অস্ট্রেলীয় এই কুলি ছিল দেশটির প্রথম কুকুরগুলোর একটি, যাকে স্তন্যপায়ী কোয়ালার লোমের গন্ধ শনাক্ত করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার (আইএফএডব্লিউ) কোয়ালা শনাক্তে কুকুর ব্যবহারের এই পদ্ধতিকে ‘নতুন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সংস্থাটির প্রোগ্রাম প্রধান জোসে শ্যারাড সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কেউই জানত না এটি সম্ভব কি না।’
বিয়ারের অদম্য শক্তির কারণে ছোটবেলায় তাকে ঘরের ভেতর রাখা কঠিন হয়, তবে পরে সে বনাঞ্চলে নিজের প্রকৃত দক্ষতা খুঁজে পায়।
শ্যারাড বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে প্রতীকী এই প্রজাতিকে (কোয়ালা) বাঁচানোর জন্য সে সত্যিই গোল্ড কোস্টের একটি অ্যাপার্টমেন্টের দেয়াল কামড়ানো থেকে অস্ট্রেলিয়ার বনে ঘুরে বেড়ানো এক মিশনে পরিণত হয়।’
২০১৯ সালের শেষ থেকে ২০২০ সালের শুরু পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ ব্লাক সামার বুশফায়ার (দাবানল) চলাকালে বিয়ারের দক্ষতায় ১০০টিরও বেশি কোয়ালা উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ওই অগ্নিকাণ্ডে লক্ষ লক্ষ হেক্টর বনভূমি পুড়ে যায়, হাজারো ঘরবাড়ি ধ্বংস হয় ও শহরগুলো ক্ষতিকর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
প্রাণবন্ত স্বভাবের এই ‘লেজ নাড়া গোয়েন্দা’ তার ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ‘অ্যানিমাল অব দ্য ইয়ার’ ও ‘পাপি টেলস ফটোস অস্ট্রেলিয়ান ডগ অব দ্য ইয়ার’।
বিয়ারকে নিয়ে ‘বিয়ার: কোয়ালা হিরো’ নামে একটি ডকুমেন্টারি এবং ‘বিয়ার টু দ্য রেসকিউ’ নামে একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে।
অবসর জীবনে বিয়ার তার এক সাবেক প্রশিক্ষকের সঙ্গে সানশাইন কোস্টে জীবন উপভোগ করবে। পেট চুলকানো আর প্রিয় খেলা ‘ফেচ’ খেলেই সময় কাটাবে কুকুরটি।