বুধবার ২৫ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ১১ ১৪৩২, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৭

ব্রেকিং

নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জেনারেল মাসুদকে এবার দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় জোর দেওয়ার তাগিদ জোবাইদা রহমানের প্রাথমিকের ‘আটকে যাওয়া’ বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ১৫ এপ্রিল যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ভ্যান্স-রুবিও, ‘শুনতে আগ্রহী’ ইরান মধ্যপ্রাচ্যে আরও ‘তিন-চার হাজার সেনা পাঠাতে যাচ্ছে’ যুক্তরাষ্ট্র কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নিহত স্বাধীনতা দিবস ঘিরে স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর ইতিহাসের নৃশংস গণহত্যার রাত: প্রধানমন্ত্রী ২৫ মার্চ কালরাত স্মরণে ‘ব্ল্যাক আউট’ কর্মসূচি ‘হবে না’ সোনা-রুপার দামে বড় পতন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ শর্ত

জাতীয়

শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় জোর দেওয়ার তাগিদ জোবাইদা রহমানের

 প্রকাশিত: ১৫:০৫, ২৫ মার্চ ২০২৬

শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় জোর দেওয়ার তাগিদ জোবাইদা রহমানের

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে’ অংশ নিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় আরো গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী জোবাইদা রহমান।

তিনি বলেছেন, “প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের জীবন ও বিকাশের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হয়। আজ আমরা তাদের যে যত্ন করি, শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলি, তাই আগামী দিনে জাতিকে গড়ে তোলে।”

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তার আমন্ত্রণেই জোবাইদা রহমান দুই দিনের এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল।

চল্লিশটির বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি এবং রাষ্ট্র নেতাদের স্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন এ সম্মেলনে। বিশ্বব্যাপী শিশুদের কল্যাণে উচ্চ পর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এ সম্মেলন কাজ করছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ওয়ার্কিং সেশনে জোবাইদা রহমান শিশুদের উন্নয়নে বৈশ্বিক অঙ্গীকারে বিশ্বনেতা ও অংশীদারদের একত্রিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, “প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ তার শিশুদের যত্ন, শিক্ষা এবং মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল। আজ এই ঐতিহাসিক সম্মেলনে আপনাদের সাথে যোগ দিতে পারাটা আমার জন্য বিরাট সম্মানের বিষয়।”

বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি আমার দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এখানে এসেছি। আমার স্বামী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, আমাদের সদ্য নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ম্যানডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।

“একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল জাতি গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সরকার ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মত উদ্যোগ চালু করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিক সুবিধা দেবার মাধ্যমে শক্তিশালী করবে এবং শিশুদের নিরাপদ ও যত্নশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠাও নিশ্চিত করবে।”

ডা. জোবাইদা বলেন, “একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে কেবল চিকিৎসার ওপর নয়, জীবনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়া হয়।”

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষা প্রসঙ্গে জুবাইদা রহমান জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কথা বলেন। তিনি এ সংগঠনটি ভাইস চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং সুরভীর সঙ্গে আমার কাজ শিক্ষা, যুব উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের প্রসারে আমার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মত দেশে, যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং উপকরণের সহজলভ্যতা এখনও অধরা।

“আমাদের সরকার ডিজিটাল যুগে উন্নতি করার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করছে। আমাদের সরকার শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ করছে, শিক্ষণ উপকরণ হালনাগাদ করছে, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি চালু করছে। শ্রেণিকক্ষগুলোতে মাল্টিমিডিয়া বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা দলবদ্ধ কাজ, সৃজনশীলতা এবং আদর্শ স্থাপনে উৎসাহিত করছে।”

তিনি বলেন, “প্রযুক্তি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রযুক্তি শহুরে ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা এই সরঞ্জামগুলোর নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে শিশুরা একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। “

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নারীর ক্ষমতায়নে ‘মাইলফলক’ সৃষ্টি হয়েছিল মন্তব্য করে তার পুত্রবধূ জোবাইদা বলেন, “প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী অধিকারকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমাদের সরকার স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

“শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারি খাতের ভিত্তি স্থাপন করে লক্ষ লক্ষ নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এই প্রচেষ্টাগুলো প্রমাণ করে যে, যখন নারীরা ক্ষমতায়িত হন, তখন পরিবারগুলো শক্তিশালী হয় এবং শিশুরা সমৃদ্ধি লাভ করে।।”

আর এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী বলেন, “এর মাধ্যমে আমরা নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর প্রসারিত করতে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন করতে এবং সকলের জন্য শিক্ষার মান উন্নত করতে চাই।

“শক্তিশালী প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা প্রতিটি অঞ্চলকে সংযুক্ত করতে, প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষিত করতে এবং প্রতিটি শিক্ষণ যাত্রাকে ব্যক্তিসম্পৃক্ত করতে চাই। একসঙ্গে মিলে আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি যা হবে সহনশীল, সহানুভূতিশীল এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত ।”

এ সম্মেলনে যোগ দিতে গত ২২ মার্চ ঢাকা ছাড়েন জোবাইদা রহমান। লন্ডন হয়ে পরদিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান।

সম্মেলনে তিনি চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিনিধি দলে তার সঙ্গে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, অর্থপোডিক সার্জন শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং আইনজীবী মেহনাজ মান্নান।

গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটের পাশাপাশি মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উপস্থাপন করা হয়। জোবাইদা রহমান প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

বুধবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন ফার্স্ট লেডির আয়োজনে সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনেও অংশ নেবেন জোবাইদা রহমান।