যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ভ্যান্স-রুবিও, ‘শুনতে আগ্রহী’ ইরান
যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি ‘দৃশ্যমান’—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্যরা ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পজামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ফের আলোচনায় ইরান রাজি নয়, এর বদলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সঙ্গে যোগাযোগে আগ্রহী, ইরানি প্রতিনিধিরা ট্রাম্প প্রশাসনকে এ কথা আগেই জানিয়েছিল বলে আঞ্চলিক দুই সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সিএনএন।
দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার গুঞ্জনের ভেতরই যুক্তরাষ্ট্র আসছে দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজারো সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে বলে খবরও বেরিয়েছে। এমন পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে তেল-গ্যাসের সঙ্কট ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে অনেকে আশঙ্কাও করছেন।
ইরানি এক সূত্র সিএনএনকে বলেছে, যুদ্ধ বন্ধের ‘টেকসই’ কোনো প্রস্তাব থাকলে তা শুনতে রাজি তেহরান।
এ সপ্তাহের শেষ দিকে ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠকের সম্ভাবনা চাউর হলেও, শেষ পর্যন্ত আদৌ সেটি হবে কিনা তা নিয়ে উদ্যোক্তারাই সন্দিহান, বলছে একাধিক সূত্র।
“সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওয়াশিংটনের উদ্যোগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক ধরনের যোগাযোগ হয়েছে। তবে তা এখনও আলোচনার পর্যায়ে যায়নি। যুদ্ধ শেষ করতে কোনো চুক্তি সম্ভব কিনা—তা যাচাই করতে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পাঠানো বার্তা এসেছে।
“কেবলই যুদ্ধবিরতি নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত বন্ধে একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি হয় কিনা, তার লক্ষ্যে ওই প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে,” বলেছে ওই ইরানি সূত্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি প্রকাশ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে যেসব বলছেন সেসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে সূত্রটি বলেছে, ইরানের অবস্থান সবসময়ই স্পষ্ট যে তেহরান যে কোনো কার্যকর প্রস্তাব বিবেচনা করতে প্রস্তুত।
“ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠক বা সরাসরি আলোচনা চাইছে না। তবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে—এমন কোনো টেকসই চুক্তির পরিকল্পনা নাগালের মধ্যে এলে সেটি শোনার জন্য তারা প্রস্তুত।
“কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র বানানো হবে না, এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত থাকলেও পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার থাকবে ইরানের,” ভাষ্য তার।
ওয়াশিংটনের যে কোনো প্রস্তাবে ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি থাকতে হবে, বলেছে সূত্রটি।