বুধবার ১৮ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ৪ ১৪৩২, ২৯ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান ইসরায়েলে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান কিউবা নিয়ে যা খুশি তাই করতে পারি: ট্রাম্প ধর্ষণ রোধে সব মন্ত্রণালয়-সংস্থাকে সমন্বিত অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ গাড়িতে ট্রাকের ধাক্কা, অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন এমপি আতিক মুজাহিদ ইরানের নিরাপত্তা প্রধান লারিজানিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের পহেলা বৈশাখে সাড়ে ২১ হাজার কৃষক কার্ড দিচ্ছে সরকার কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী বাগদাদে দূতাবাসে হামলা, নিহত ৪ তেল অবরোধে অন্ধকারে কিউবা, ‘দখল’ নেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের ঈদের সাত দিনের ছুটি শুরু, রাজধানী ছাড়ছে মানুষ সর্বকালের সর্বোচ্চ দরে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ১২ হাজার ফ্লাইট বাতিল, অচলাবস্থা আফগানিস্তানের হাসপাতালে ‘পাকিস্তানের হামলা’, বহু হতাহত

ইসলাম

বিধবা কি বোন-ভগ্নিপতির সাথে হজ্বে যেতে পারবে?

 প্রকাশিত: ০৯:৩০, ১৮ মার্চ ২০২৬

বিধবা কি বোন-ভগ্নিপতির সাথে হজ্বে যেতে পারবে?

প্রশ্ন. একজন নিঃসন্তান বিধবা নারীর উপর হজ্ব ফরয হয়েছে। তার আপন ভাই আছে, কিন্তু তাদের উপর হজ্ব ফরয নয়। তবে বিধবার ছোট বোন ও তার স্বামী হজ্বের সফরে যাচ্ছে। উক্ত বিধবা তাদের সাথে হজ্বের জন্য নিয়ত করেছে।

এখন প্রশ্ন হল, ছোট বোন ও তার স্বামীর সাথে বিধবার হজ্বের জন্য যাওয়ার বিষয়ে শরীয়তের বিধান কী? 

উত্তর. হজ্বের সফরেও মহিলাদের জন্য মাহরাম থাকা আবশ্যক। সহীহ মুসলিমে হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার পিতা, ছেলে, স্বামী বা ভাই অথবা অন্য কোনো মাহরাম ছাড়া তিনদিন (৪৮ মাইল বা ৭৮ কিলোমিটার) বা তার চেয়ে বেশি দূরত্বের কোথাও সফর করা বৈধ নয়।-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪০

হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুতবায় বলতে শুনেছি, .. কোনো মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া কোথাও সফর না করে। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্ত্রী তো (মাহরাম ছাড়াই) হজ্বের উদ্দেশ্যে রওনা করেছে। আর আমি তো অমুক যুদ্ধে যাব বলে নাম লিখিয়েছি। আল্লাহর রাসূল বললেন, যাও, তুমিও তোমার স্ত্রীর সাথে গিয়ে হজ্ব কর। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪১

সুতরাং প্রশ্নোক্ত মহিলার জন্য তার বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্বে যাওয়া জায়েয হবে না। মাহরামের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে। আর শারীরিক সক্ষমতা থাকা পর্যন্ত যদি মাহরামের ব্যবস্থা না হয় তাহলে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে গেলে কাউকে দিয়ে বদলি হজ্ব করাতে হবে বা বদলি হজ্বের অসিয়ত করে যেতে হবে।

উল্লেখ্য যে, শরীয়তের বিধান অনুযায়ী যেমন মহিলাদের জন্য হজ্বের সফরে স্বামী বা মাহরাম থাকা জরুরি তেমনি বাস্তবতার আলোকেও হজ্বের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দেওয়ার জন্য পুরো সফরে মহিলার জন্য মাহরামের প্রয়োজন। তাছাড়া সৌদি সরকারের আইন অনুযায়ী মহিলার সাথে মাহরাম থাকা বাধ্যতামূলক। মাহরাম সাথে না থাকলে হজ্ব এজেন্সিগুলো ভুয়া মাহরাম বানিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকে। হজ্বের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায় করতে গিয়ে এমন গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়া কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

-রদ্দুল মুহতার ২/৪৫৮; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ৫৫

মাসিক আলকাউসার