মধ্যপ্রাচ্যে আরও ‘তিন-চার হাজার সেনা পাঠাতে যাচ্ছে’ যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কয়েক হাজার সেনাকে পেন্টাগন শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নানান কথাবার্তার ভেতরেই তারা ওই অঞ্চলে সমরশক্তি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত দুই ব্যক্তি মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ আভাস দিয়েছেন।
ইরানি ভূখণ্ডে সেনা ঢোকানোর পাশাপাশি পেন্টাগনের হাতে থাকা বিকল্পের সংখ্যা বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছে, তা গত সপ্তাহেই এক প্রতিবেদনে বলেছিল সংবাদমাধ্যমটি।
এমন কিছু হলে তা সংঘাত দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনাও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। চার সপ্তাহ ধরে চলা এ যুদ্ধ এরই মধ্যে তেলের দাম ও বিশ্বের শেয়ার বাজারগুলোকে অস্থির করে রেখেছে।
নতুন করে যে সেনাদের পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে তাদেরকে মধ্যপ্রাচ্যের কোথায় মোতায়েন করা হবে, এবং তারা কবে ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা ওই দুই কর্মকর্তা।
মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ওই সেনারা এখন নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগে আছেন।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রশ্ন করা হলে তারা হোয়াইট হাউসকে দেখিয়ে দেয়। হোয়াইট হাউস জানায়, সেনা মোতায়েনের সব ঘোষণা পেন্টাগন থেকে আসবে।
“যেমনটা আমরা বলে আসছি, ট্রাম্পের হাতে সব ধরনের সামরিক বিকল্পই আছে,” বলেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি।
ইরানের ভেতর সেনা পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত হয়নি, তবে নতুন করে যুক্ত হওয়ার পথে থাকা সেনারা ওই অঞ্চলে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ অভিযানের সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে, রয়টার্সকে এমনটাই বলেছে একটি সূত্র।
পেন্টাগন ওই অঞ্চলে তিন থেকে চার হাজার সেনা পাঠাতে যাচ্ছে, বলেছে সূত্রগুলোর একটি।
এর আগে ২০ মার্চের এক প্রতিবেদনে রয়টার্স বলেছিল, উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ইউএসএস বক্সার, মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট ও তার সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার মেরিন ও নাবিক পাঠাতে যাচ্ছে।
নতুন সেনারা যুক্ত হওয়া ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যে এখন ৫০ হাজারের মতো মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।
তার সঙ্গে আরও ‘তিন-চার হাজার সেনা’ যুক্ত করার এ পরিকল্পনার খবর বাইরে আসার আগের দিনই ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার বরাত দিয়ে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি দিন কয়েকের জন্য স্থগিত করেছিলেন।
তবে সোমবার ট্রুথ সোশালে ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পর ইরান কোনো ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করেছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত কেবল মার্কিন বাহিনীই ইরানি ভূখণ্ডে ৯ হাজার নিশানায় হামলা চালিয়েছে।
এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩ মার্কিন সেনার প্রাণ গেছে এবং ২৯০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
আহতদের মধ্যে ১০ জনের জখম গুরুতর, ২৫৫ সেনা ফের দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন, বলেছেন তিনি।
চার সপ্তাহ ধরে চলা এ হামলায় ইরানের ভেতর অসংখ্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, প্রায় দুই হাজার বেসামরিক নিহত হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন হরমুজ প্রণালির দখল নেওয়াসহ ইরান যুদ্ধের নানান বিকল্প খতিয়ে দেখছে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে আগেই একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছিল। হরমুজ দখলে ইরানের উপকূলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছিল তারা।
ট্রাম্প প্রশাসন এমনকি ইরানের ৯০ শতাংশ তেল যে দ্বীপ দিয়ে রপ্তানি হয়, সেই খার্ক দ্বীপে স্থলসেনা মোতায়েনের কথাও ভাবছে বলে রয়টার্সের আগেকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।
আদেশ পাওয়ার ১৮ ঘণ্টার মধ্যে মোতায়েনে সক্ষম ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন প্যারাস্যুটের সাহায্যে নেমে আক্রমণ পরিচালনায় পারদর্শী।
তবে ইরানে সীমিত পরিমাণ স্থল সেনা পাঠানো হলেও তা ট্রাম্পের জন্য বড়সড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।
ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই ব্যাপক সমালোচনা চলছে। বেশিরভাগ জরিপেই সিংহভাগ মার্কিন নাগরিকই যে এ যুদ্ধ চান না তা প্রতিফলিত হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে ট্রাম্প নিজেও মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়াবেন না, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসসের সর্বশেষ জরিপ বলছে, ইরানে হামলায় সম্মতি আছে মাত্র ৩৫% মার্কিন নাগরিকের, গত সপ্তাহেও এ হার ছিল ৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে হামলার বিরোধিতা করছেন ৬১ শতাংশ, গত সপ্তাহের তুলনায় যা দুই শতাংশ বেশি।