রোববার ৩০ নভেম্বর ২০২৫, অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪৩২, ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

ব্রেকিং

খুলনায় আদালত চত্বরে দুজনকে গুলি করে হত্যা কর্মবিরতিতে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের একাংশ, বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা এমটি কায়রোসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: চার বাংলাদেশি নাবিক কেমন আছেন? হাসিনাকে ‘১০০ কোটি ঘুষ’: ট্রান্সকম সিইও সিমিনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘একই পর্যায়ে’: জাহিদ ২৪ বছর পর নতুন প্রধানমন্ত্রী পেল ক্যারিবীয় দেশ গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় গাজায় একই পরিবারের ২ শিশু নিহত খালেদা জিয়া বিদেশে নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই: মির্জা ফখরুল তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের ‘কোনো বাধা নেই’: প্রেস সচিব “ঢাকায় উবারের ভাড়া জালিয়াতি অভিযোগে ভোক্তা অধিদপ্তরের তদন্ত, গ্রাহক ক্ষোভ চরমে”

অর্থনীতি

পেঁয়াজ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা হতেই বিপাকে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা

 প্রকাশিত: ১৪:২২, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

পেঁয়াজ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা হতেই বিপাকে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হতেই সমস্যায় পড়েছেন ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বরাত পেয়ে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ সীমান্তে নিয়ে এসেছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ করেই সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর ফলে সেসব পেঁয়াজ এখন বন্দরেই পচন ধরছে। 

দেশটির ব্যবসায়ীদের জানান, শীতকাল হওয়ায় পচনের সমস্যা কিছুটা কম, তবে বৃষ্টি হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। সবাই এখন অপেক্ষায় আছে—কবে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে।

এমন চিত্র দেখা যায় পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার মেহেদিপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি, উত্তর ২৪ পরগনার ঘোজাডাঙ্গা এবং কিছু ক্ষেত্রে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে। যদিও পেঁয়াজবোঝাই গাড়ি পেট্রাপোলে খুব বেশি নেই, বর্তমানে মেহেদিপুর ও হিলি সীমান্তে সবচেয়ে বেশি গাড়ি আটকে আছে। এসব সীমান্তে ট্রাক ও গুদাম মিলিয়ে অন্তত ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

পেঁয়াজে পচন ধরার ভয়ে স্থানীয় বাজারগুলোয় পানি দরে সেসব পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন রপ্তানিকারকরা।

মেহেদিপুর স্থলবন্দরের রপ্তানিকারক সুধীর মণ্ডল জানান, বাংলাদেশে পেঁয়াজ পাঠানোর বরাত পেয়েই নাসিক থেকে চার ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু বন্দরে পৌঁছে জানতে পারি, বাংলাদেশ পেঁয়াজ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাই পেঁয়াজ সীমান্তের একটি গুদামে রাখা হয়েছে। পচনের ভয়ে পাইকারী ছয় রুপি কেজিদরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।

মালদা জেলার আরেক ব্যবসায়ী সাজিরুল বলেন, ৫০ ট্রাক পেঁয়াজ নাসিক ও ইন্দোর থেকে কিনে মালদার নিজেদের গুদামে মজুত করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে খুচরা বাজারে ২২ রুপি কেজি দরে এক টনের দাম পড়ে ২২শ রুপি। কিন্তু এখন পচনের ভয়েই বাধ্য হয়ে ২ থেকে সর্বোচ্চ ১০ রুপি কেজিদরে বিক্রি করতে হচ্ছে। আশা একটাই—নষ্ট হওয়ার আগে যতটুকু দাম পাওয়া যায়, সেটাই অনেক।

পশ্চিমবঙ্গ এক্সপোর্টার্স কমিটির রাজ্য সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, বাংলাদেশের তরফে পেঁয়াজ আমদানির বার্তা আসার পরই ভারতীয় রপ্তানিকারকরা নাসিকের পেঁয়াজ কিনে এনেছিলেন। কিন্তু আচমকাই, নিজেদের কৃষকদের স্বার্থের কথা বলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি পারমিট (আইপি) ইস্যু করা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সমস্যায় পড়েছেন ভারতের রপ্তানিকারকরা।

জানা যায়, মেহেদিপুর স্থলবন্দরসংলগ্ন গুদামে মজুত করা পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ঢাকায় অবস্থিত ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার অন্তত ভারতীয় সীমান্তে মজুত থাকা পেঁয়াজের আইপি দেবে।

বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিল্লির গাজীপুরের পাইকারী বাজারেও অবস্থা নাজুক। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি বন্ধের খবর আসতেই সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে।

গাজীপুরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী পারমানন্দ সাইনি জানান, নাসিক, আলওয়ার, মধ্যপ্রদেশ, বেঙ্গালুরুসহ নানা জায়গা থেকে প্রচুর পেঁয়াজ এসেছে। এবার ফলনও ভালো। কিন্তু বাংলাদেশে রপ্তানি বন্ধ থাকায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ দুই রুপিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৩ রুপিতে। সাইনির দাবি— এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সরকারি সংস্থাগুলোকে নিশানা করে সুহেচ্ছা সিং অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধ হওয়ায় পেঁয়াজ ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। পণ্য রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ লোকেশ গুপ্ত বলছেন, অযথা মজুতদারি বন্ধ করতে ভারত সরকারের উচিত বেসরকারি ও সরকারি সংস্থার জন্য নির্দিষ্ট মজুত সীমা নির্ধারণ করা।

তার অভিমত, ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বাজারকে বহুমুখী করতে হবে। রপ্তানি ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত, যাতে এক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেলে অন্য দেশে পণ্য সরবরাহ করা যায়— যাতে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন না হন।