সোমবার ২৯ জুন ২০২৬, আষাঢ় ১৫ ১৪৩৩

ব্রেকিং

উজানের ঢলে ফুঁসছে তিস্তা, পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে গৃহকর্মী নির্যাতন; স্ত্রীসহ মানবাধিকার কর্মীর সাত বছরের কারাদণ্ড ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তা: পুলিশের ‘দোষ’ পেয়েছে তদন্ত কমিটি ১৭ বছর ধরে ‘নির্যাতিত কর্মীদের’ জন্যও বরাদ্দ চান শামা এটিএম বুথের ১৭ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে রংপুরে ধরা নিরাপত্তাকর্মী ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল, ১৫২১ জনকে মনোনয়ন আদ্-দ্বীনের ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৪ মৃত্যু, শনাক্ত ১১৬ সিলেটের নতুন ডিসি রেজা হাসান, কুমিল্লায় রোজী আকতার কার্নিশে ঝোলা তরুণকে গুলি: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ পুলিশের প্রাণদণ্ড হাদি হত্যা: ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে অধিকতর প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ ভাঙ্গায় কয়েকটি গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে মহাসড়ক বন্ধ, আহত অর্ধশতাধিক জর্ডানকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার তিনে তিন ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াল ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না, আবারও হুমকি ট্রাম্পের

জাতীয়

সুদ নয়, জাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি সংসদে

 প্রকাশিত: ০৭:৪৮, ২৯ জুন ২০২৬

সুদ নয়, জাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক-

দেশে সুদনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এ লক্ষ্যে আলেমদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন এবং পৃথক জাকাত মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেন তিনি।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব বক্তব্য দেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে সুদ একটি গুরুতর অপরাধ এবং এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সা.) বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। তাই একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে সুদভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জাকাতনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি দাবি করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা অতীতে প্রমাণিত হয়েছে। অনেক প্রচলিত ব্যাংকও ইসলামিক ব্যাংকিং কাউন্টার চালু করেছিল, যা জনগণের আগ্রহেরই প্রতিফলন।

জাকাত ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, সুষ্ঠুভাবে জাকাত আদায় নিশ্চিত করা গেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ব্যয় করা সম্ভব হবে। এজন্য জাকাত ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ আলেমদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি একটি স্বতন্ত্র জাকাত মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আরও বলেন, কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ অব্যাহত থাকলে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিরুৎসাহিত হবে না। একই সঙ্গে মাদক ও ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে তামাকজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির পদক্ষেপকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ইসলামের প্রথম রাষ্ট্র মদিনায় অর্থনীতির ভিত্তি ছিল জাকাত, ওশর ও অন্যান্য শরিয়াহসম্মত আর্থিক বিধান। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকেও সে ধরনের নীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি কওমি মাদরাসার জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দের দাবিও জানান তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, বাজেটে ব্যয়সংযম, অপচয় রোধ এবং জাকাত ব্যবস্থার বিষয়ে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, একটি টেকসই অর্থনীতির জন্য এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

ঋণের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্র—কোনো পর্যায়েই ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। ব্যাংকঋণ খেলাপি সংস্কৃতি বন্ধ এবং দায়িত্বশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বক্তব্যে শিক্ষা, শ্রম ও সামাজিক কল্যাণের বিভিন্ন বিষয়ও তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও সরকারি সহায়তার আওতায় আসা উচিত। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনা, যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং নারী শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠারও আহ্বান জানান তিনি।

কৃষি খাতে সহায়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু কার্ড বিতরণ নয়, মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সরকারের প্রধান লক্ষ্য। কর্মসংস্থান বাড়লে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে হাসপাতালের অবকাঠামো, অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা বৃদ্ধি এবং জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণেরও আহ্বান জানান অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা হলে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত হবে।