রোববার ২১ জুন ২০২৬, আষাঢ় ৭ ১৪৩৩

ব্রেকিং

কুয়ালা লামপুরে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এনসিপি এমপির বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ অপহরণের পর শিশু হত্যা: বগুড়ায় ৫ জনের প্রাণদণ্ড ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুতে তদন্ত কমিটি পাঁচদিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে ৬০ দিনে চুক্তি না হলে হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের হুমকি ট্রাম্পের মালয়েশিয়া গেলেন প্রধানমন্ত্রী কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৩ মৃত্যু দুই এমপির পাশাপাশি নিজের বক্তব্যও বাদ দিলেন স্পিকার যুদ্ধে ইরানই জয়ী, মনে করে অধিকাংশ ইসরায়েলি বাজে ব্যাটিংয়ে শেষ ম্যাচও হেরে হোয়াইটওয়াশড বাংলাদেশ পূর্ববর্তী সরকারের গাফিলতিতে টিকা কর্মসূচিতে সংকট: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ইমাম আটক, মামলা সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু হচ্ছে পাকিস্তানে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৭ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিকসহ নিহত ১১ ১১ বলে ফিফটির বিশ্বরেকর্ড, ফাইনালে লঙ্কান বোলিং গুঁড়িয়ে সুরিয়াভানশির ২৯ বলে ৯৪

রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এনসিপি এমপির বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

 প্রকাশিত: ২০:৩১, ২১ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এনসিপি এমপির বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বিরোধীদলীয় জোট এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের পাল্টাপাল্টি যুক্তিতে তৈরি হয় হট্টগোল।

এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এটি শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।’

রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১১তম দিনে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অসত্য তথ্য দিয়ে ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করছেন অভিযোগ এনে বিরোধীদলীয় জোট এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজকে সংসদে নেই।

তিনি বিভিন্ন ভাষণে বিরোধী দল সম্পর্কে অসত্য তথ্য দিচ্ছেন। ঋণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি যখন বলেন—‘আপনারা সবাই জমিদার যারা ঋণ নেন নাই’, এর মাধ্যমে মূলত তিনি ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করছেন।

আমরা এমন সংসদ চাই না যেখানে প্রধানমন্ত্রী অসত্য তথ্য দেন।’

আলোচনার এক পর্যায়ে অনির্ধারিত আলোচনায় সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, ‘আমরা সংসদকে কার্যকর করতে উভয় পক্ষ একটি সম্মতিতে এসেছি। সংসদে এমন কোনো অসত্য বাক্য উত্থাপন করা উচিত নয় যাতে কারও মানহানি হয়। নতুন প্রজন্মের একজন সংসদ সদস্য সংসদ নেতাকে নিয়ে কিছু বক্তব্য রেখেছেন যা অত্যন্ত ক্ষোভের। আমাদের নেতা উড়ে এসে জুড়ে বসেনি। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। ১৬ বছর ধরে রাজপথে সংগ্রাম করে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে তিনি সরকার গঠন করেছেন। সংসদ নেতাকে নিয়ে দেওয়া অসত্য বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানাচ্ছি।’

জয়নাল আবেদিন ফারুকের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, সংসদ সদস্য ঢালাওভাবে অসত্য বলেছেন এমন দাবি না করে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হবে কোন তথ্যটি ভুল ছিল। তিনি মূলত সংসদ নেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন।

সংসদ নেতার সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীও মানুষ এবং বক্তব্য দেওয়ার সময় তারও ভুল বা ‘স্লিপ অব টাং’ হতে পারে। আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছি এবং কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের দিকে ফিরে যেতে চাই না। তাই স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিরোধী দলের চীফ হুইপ যে কথাটা বললেন আমার মনে হয় এটা সত্য নয়। সঠিক নয়। কারণ আমাদের সংসদ সদস্য যে বক্তব্য দিয়েছেন সেই বক্তব্যের মধ্যে তিনি সুনির্দিষ্টভাবেই বলেছেন আমাদের সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আপনারা ফ্যাসিস্টের কথা বলেন, কিন্তু ফ্যাসিস্ট আচরণ তো আপনাদের কাছ থেকেই আসছে। যে অংশটুকু অসত্য, তা দয়া করে এক্সপাঞ্জ করবেন।

এ সময় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বারবার দাঁড়িয়ে কথা বলতে চাইলে স্পিকার তাকে সতর্ক করে বলেন, ‘আপনার সময় শেষ। এভাবে যখন খুশি তখন দাঁড়ানো সংসদের রীতি নয়। প্লিজ টেক ইয়োর সিট। এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।’

এসময় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হান্নান মাসউদ সংসদ নেতার ব্যাপারে কিছু কথা বলেছেন। আমি অনুরোধ করব, বাইরের বিষয় টেনে এনে এখানে এক্সপাঞ্জ বা বক্তব্য দেওয়া যেন এলাও না করা হয়। সংসদের ভেতরে সংসদীয় নর্মস থাকা উচিত। সত্য-অসত্যের এই ঝগড়ায় গেলে হয়তো অনেক কিছু লজ্জাজনক হয়ে যাবে। তাই পুরো বিষয়টি ইগনোর করাই আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে।’

সবশেষে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমরা সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেব।’