রোববার ২৮ জুন ২০২৬, আষাঢ় ১৪ ১৪৩৩

ব্রেকিং

উজানের ঢলে ফুঁসছে তিস্তা, পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে গৃহকর্মী নির্যাতন; স্ত্রীসহ মানবাধিকার কর্মীর সাত বছরের কারাদণ্ড ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তা: পুলিশের ‘দোষ’ পেয়েছে তদন্ত কমিটি ১৭ বছর ধরে ‘নির্যাতিত কর্মীদের’ জন্যও বরাদ্দ চান শামা এটিএম বুথের ১৭ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে রংপুরে ধরা নিরাপত্তাকর্মী ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল, ১৫২১ জনকে মনোনয়ন আদ্-দ্বীনের ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৪ মৃত্যু, শনাক্ত ১১৬ সিলেটের নতুন ডিসি রেজা হাসান, কুমিল্লায় রোজী আকতার কার্নিশে ঝোলা তরুণকে গুলি: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ পুলিশের প্রাণদণ্ড হাদি হত্যা: ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে অধিকতর প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ ভাঙ্গায় কয়েকটি গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে মহাসড়ক বন্ধ, আহত অর্ধশতাধিক জর্ডানকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার তিনে তিন ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াল ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না, আবারও হুমকি ট্রাম্পের

জাতীয়

গৃহকর্মী নির্যাতন; স্ত্রীসহ মানবাধিকার কর্মীর সাত বছরের কারাদণ্ড

 প্রকাশিত: ১৯:২৭, ২৮ জুন ২০২৬

গৃহকর্মী নির্যাতন; স্ত্রীসহ মানবাধিকার কর্মীর সাত বছরের কারাদণ্ড

আট বছর আগে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় গৃহকর্মী হাওয়া আক্তারকে নির্যাতনের মামলায় মানবাধিকার কর্মী মোস্তাকিন শরীফ এবং তার স্ত্রী জান্নাতুল নাঈমাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক শাহানাজ সুলতানা এ রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু রায়হান সরকার বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের প্রত্যেককে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী আবু রায়হান সরকার।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর খিলগাঁও থানার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ১৪ বছর বয়সি হাওয়া আক্তারকে উদ্ধার করে পুলিশ।

“পুলিশ হাওয়াকে জিজ্ঞাসাবাদদ করলে সে জানায়, ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে গৃহকর্মী হিসেবে ওই বাসায় কাজ করত। কাজের ত্রুটির অজুহাতে তাকে সব সময় গালি-গালাজ, লোহার খুন্তি ও রড দিয়ে দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিত। হাওয়াকে একজন ধরত, আরেকজন মারত। সে কান্নাকাটি করলে তারা হাসাহাসি করতো। হাওয়াকে তার পরিবার বা স্বজনদের সাথে দেখা করতে দিত না।”

এ ঘটনায় খিলগাঁও থানার তৎকালীন এসআই সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন ৩১ অক্টোবর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে পরের বছরের ২২ অক্টোবর দুই জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকর্তা খিলগাঁও থানার এসআই প্রশান্ত বালা।

অভিযোগপত্রে উঠে আসে নির্মম নির্যাতনের কথা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, “আসামিরা সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা মাথায় ২০১৮ সালের ৭ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হাওয়াকে আটকে রেখে লোহার খুন্তি, রড গরম করে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর পোড়া, জখম, গ্যাসের চুলার আগুনে চুল পুড়িয়ে দিত। গরম চাকু দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে জখম করে সেখানে মরিচের গুড়া দিয়ে তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি তথা তাকে বিভিন্নভাবে অমানবিক, অকল্পনীয়ভাবে সমস্ত শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে তার স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করে চিরতরে পঙ্গু করে দিয়েছে।”

২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।

আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল থেকে এদিন সাজার রায় এল।