দেশে ১ কোটি ৮০ লাখ লিটার রাইস ব্র্যান তেল কিনবে সরকার
দেশে ভোজ্যতেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১ কোটি ৮০ লাখ লিটার রাইস ব্র্যান তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।
আজ বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই পরিশোধিত রাইস ব্র্যান তেল কেনার পৃথক প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালে এটি ক্রয় কমিটির অষ্টম বৈঠক এবং নতুন সরকারের অধীনে প্রথম সভা।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি, স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি, বিদ্যুৎ বিভাগের একটি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
এর মধ্যে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (জাতীয়) পরিশোধিত রাইস ব্র্যান অয়েল কেনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কমিটি।
প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, চারটি প্যাকেজের আওতায় ১৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকায় ৮০ লাখ লিটার পরিশোধিত রাইস ব্র্যাণ তেল কেনা হবে।
এ ক্ষেত্রে সরবরাহকারী চারটি প্রতিষ্ঠান হলো- মজুমদার ব্র্যাণ অয়েল মিলস লিমিটেড, গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোল্ট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রি, তামিম অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং প্রধান অয়েল মিলস লিমিটেড। লিটার প্রতি দাম ধরা হয়েছে ১৬৭.৫০ টাকা থেকে ১৬৯.৭৫ টাকা পর্যন্ত (অগ্রিম আয়কর ও পরিবহন খরচসহ)।
অন্য একটি প্রস্তাবে ১ কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্র্যান তেল কেনার সুপারিশ করা হয়েছে। পাঁচটি প্যাকেজে এই তেল কিনতে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় হবে ১৭০ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
নির্বাচিত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- মজুমদার ব্র্যান অয়েল মিলস লিমিটেড, মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড, তামিম অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোল্ট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রি। এখানে লিটার প্রতি দাম পড়বে ১৭০.২৫ টাকা থেকে ১৭০.৭৫ টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকারের সামাজিক বিপণন কার্যক্রমকে সহায়তা করাই এই তেল কেনার মূল উদ্দেশ্য।
এছাড়া, বৈঠকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচপীর বাজারের সঙ্গে চিলমারী উপজেলা সদরের সংযোগকারী তিস্তা নদীর ওপর ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত একটি ভেরিয়েশন (সংশোধিত) প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। দ্বিতীয় দফায় সংশোধনের পর এই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। মূল চুক্তিতে এর ব্যয় ছিল ৩৬৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের চেয়ে খরচ ২০.৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্পটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চীনের ‘চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন লিমিটেড (সিএসসএসি)’।
একই বৈঠকে ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি) নির্মিত সিদ্ধিরগঞ্জ ১২০ মেগাওয়াট (২ ইউনিট) গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা ৩.৩৬৬৪ টাকা (সংশোধিত ট্যারিফ) দরে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনবে। এতে সরকারের আনুমানিক ব্যয় হবে ২৩ হাজার ৮৮০ কোটি ২ লাখ টাকা।