শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ১ ১৪৩২, ২৫ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

তারেক-মোদী ফোনালাপ: সমর্থনের বার্তা নতুন আইনপ্রণেতাদের শপথ ‘যেদিন বলবে সেদিনই’: সচিব এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের: বিএনপি তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে অভিনন্দন মমতা ব্যানার্জীর গণভোট: হ্যাঁ ভোট ৬৮.০৬% ভোট পড়েছে ৫৯% আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের কারণে জামায়াতের উত্থান: ফখরুল ঢাকার ১৩টি আসন বিএনপির, ৭টি জামায়াত জোটের এনসিপির ঝুলিতে ৬ আসন ফলাফলে ‘গরমিল’, প্রশাসন ‘নিরপেক্ষ ছিল না’: জামায়াত নিরঙ্কুশ বিজয়ে তারেককে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন তারেককে মোদীর অভিনন্দন, গণতান্ত্রিক-অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের সমর্থনে থাকবে ভারত নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি ঐতিহাসিক জয়ে তারেককে অভিনন্দন, এক সঙ্গে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

জাতীয়

২৯৭ আসনের ফল: বিজয়ীদের গেজেট কবে? শপথ পড়াবেন কে?

 প্রকাশিত: ১৮:২৩, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২৯৭ আসনের ফল: বিজয়ীদের গেজেট কবে? শপথ পড়াবেন কে?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়েছেন তাদের ফলাফলের গেজেট কবে প্রকাশ করা হবে? তাদের শপথ পড়াবেন কে? নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এই আলোচনা শুরু হয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া বাংলাদেশে এবার আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী এবার তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে আসন পেয়েছে ৬৮টি।

২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের দুটো আসনের ফলাফল পরে দেওয়া হবে। জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানান, সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ। এ হার ২৯৭ আসনের প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে। আর গণভোটে প্রদত্ত ভোটের হার ৬০.২৬ শতাংশ। ২৯৯ আসনের গণভোটের তথ্য একীভূত ফলাফলে এ হার।

বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হয়েছে। এই নির্বাচনে কোন দল কত আসন পেয়েছে, তাও জানিয়েছেন ইসি সচিব।

২৯৭ আসনের ফলাফল-

বিএনপি ২০৯

 

জামায়াতে ইসলামী ৬৮

 

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২

 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১

 

গণঅধিকার পরিষদ ১

 

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১

 

গণসংহতি আন্দোলন ১

 

খেলাফত মজলিস ১

 

স্বতন্ত্র ৭

 

এবার বিএনপি ও জামায়াত

 

কোন নির্বাচনে কত আসন বিএনপি ও জামায়াতের

নির্বাচন

বিএনপি

জামায়াত

১৯৭৩: প্রথম সংসদ

প্রতিষ্ঠিত হয়নি

নিষিদ্ধ

১৯৭৯: দ্বিতীয় সংসদ

২০৭

-

১৯৮৬: তৃতীয় সংসদ

বর্জন

১০

১৯৮৮: চতুর্থ সংসদ

বর্জন

বর্জন

১৯৯১: পঞ্চম সংসদ

১৪০

১৮

১৯৯৬, ফেব্রুয়ারি: ষষ্ঠ সংসদ

২৭৮

বর্জন

১৯৯৬, জুন: সপ্তম সংসদ

১১৬

২০০১: অষ্টম সংসদ

১৯৩

১৭

২০০৮: নবম সংসদ

৩০

২০১৪: দশম সংসদ

বর্জন

নিবন্ধন বাতিল

২০১৮: একাদশ সংসদ

নিবন্ধন বাতিল

২০২৪: দ্বাদশ

বর্জন

নিবন্ধন বাতিল

২০২৬; ত্রয়োদশ

২০৯

৬৮

 

গেজেট ও শপথ, যা বলছে ইসি

নির্বাচন কমিশন বলছে, যত দ্রুত সম্ভব ২৯৭ আসনে বিজয়ীদের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ব্যবস্থা নেবে ইসি সচিবালয়।

একসঙ্গে সবার নাম, ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশ করা হবে।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকের মধ্যে ২৯৭ জনের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে পাঠাবে ইসি সচিবালয়।”

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

তার সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব নেন শামসুল হক টুকু। তিনি এখন মামলার আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ফলে, নতুন সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।

যদিও তিন দিন পরে সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাতে পারেন।

নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, “১৪৮ এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকার যদি না পড়ান, বা তারা পড়াতে অসমর্থ হন বা না থাকেন, তাহলে তিন দিন পরেও চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পাঠ করাবেন।”

তিনি বলেন, সামনে রোজা থাকায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইসির কাজ গেজেট প্রকাশ করা। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার। দ্রুত শপথ করে রমজানের আগেই চাইলে সরকার গঠন করতে পারে।

তার আগে ৫ ফেব্রুয়ারি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে নতুন সংসদ সদস্যদের ‘রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি’ দ্বারা শপথ পড়ানোর কথা বলেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে কেউ শপথ না পড়ালে সেক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।

আগের ১২ সংসদের চিত্র

বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। সে সময় ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচন হলেও ১৫টি আসন সংরক্ষিত ছিল নারীদের জন্য।

মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ প্রথম নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে জয়লাভ করেছিল।

প্রথম সংসদ নির্বাচনের প্রায় ৮ বছর পর দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। জিয়াউর রহমানের আমলে ওই নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ৩০টি৷ সেই নির্বাচনে মাস ছয়েক আগে প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি ২০৭টি এবং আওয়ামী লীগের দুই অংশ মিলে ৪১টি আসনে জয় পেয়েছিল৷

বিএনপির বর্জনের মধ্যে তৃতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৮৬ সালের ৭ মে৷ সে নির্বাচনে সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দল জাতীয় পার্টি ১৫৩টি, আওয়ামী লীগ ৭৬টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১০টি আসনে জয় পায়।

তৃতীয় সংসদের দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয় এরশাদের শাসনামলে৷ আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রায় সব দলের বর্জনের মধ্যে ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসনে জয় পেয়েছিল।

সংরক্ষিত নারী আসন সংক্রান্ত আইনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই সংসদে মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩০০টি৷

পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনি ব্যবস্থার নতুন ধারায় প্রবেশ করে বাংলাদেশ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই নির্বাচন হয়। পঞ্চম সংসদে বিএনপি ১৪০টি, আওয়ামী লীগ ৮৮টি আর জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসনে জয়লাভ করে৷

এছাড়া নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ৩০ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন৷

আওয়ামী লীগসহ অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দলের বর্জনের মধ্যে ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি৷ সে সময় ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ২৭৮টিতে জয়লাভ করে৷ মাত্র চার কার্যদিবস সংসদ বসার পর তা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। তার আগে সেই সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস হয়।

এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি, বিএনপি ১১৬টি এবং জাতীয় পার্টি ৩২টি আসনে জয়লাভ করে৷ পরে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ৷

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি ও চার দলীয় জোট সরকার। ৩০০ আসনের ১৯৩টিতে বিএনপি আর ৬২টিতে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়৷

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে সবশেষ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ২৬৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। দুই বছর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর আসা ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৩৩টি আসন পায়।

নবম সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।

এরপর বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের বর্জনের মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরঙ্কুশ জয় পায় আওয়ামী লীগ। এ ভোটে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি, জাতীয় পার্টি ২২টি, বিএনপি ৬টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাসদ ২টি, গণফোরাম ২টি, বিকল্পধারা ২টি, তরিকত ফেডারেশন ১টি, জেপি ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসনে জয় পান।

সবশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি ভোটে আওয়ামী লীগ ২২২টি আসনে জয় পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পায় ৬২ আসনে।

এছাড়া জাতীয় পার্টি ১১টি, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) একটি করে আসন পায়। একটি আসনে জয় পায় বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি।