দেশ গড়তে খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই এগিয়ে যেতে আহ্বান বিশিষ্ট নাগরিকদের
তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। তারা বলেছেন, দেশ গড়তে খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই এগিয়ে যেতে হবে।
বিশিষ্ট নাগরিকদের ভাষ্য- তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘদিন রাজনৈতিক চরম নিপীড়ন এবং নিষ্পেষণের শিকার খালেদা জিয়া ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর কোনো বিদ্বেষ ছড়াননি। বরং তারুণ্যের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে জ্ঞানভিত্তিক দেশ ও জাতি গড়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন সেই পথেই সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘অপরাজেয় বেগম খালেদা জিয়া’ শীর্ষক নাগরিক শোকসভায় তারা এ আহ্বান জানান বক্তারা।
শোক সভায় বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার আপসহীন ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান নিয়ে দেশের বরেণ্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। সভায় বক্তারা মরহুমার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ত্যাগের নানা দিক তুলে ধরেন। তাদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে কিভাবে গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
এ শোকসভায় দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন।
বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে বিকেল সাড়ে ৫ টায় শোকসভা শেষ হয়।
এর আগে বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক এ শোকসভায় সপরিবারে উপস্থিত হোন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা।
সভাস্থলে তারেক রহমানের আগমনের পর অনুষ্ঠান শুরুর আগে খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর বেলা ৩টা ৫ মিনিটে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্যে দিয়ে এ শোকসভা শুরু হয়। এতে শোকগাথা উপস্থাপন করেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন।
এরপর সভায় একে একে বক্তব্য রাখেন লেখক ফাহাম আবদুস সালাম, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, খালেদা জিয়ার চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী দেবাশীষ রায়, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক শফিক রেহমান, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ডিপিআইয়ের সভাপতি আবদুস সাত্তার দুলাল, সাবেক কূটনৈতিক আনোয়ার হাশিম, আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ, লেখক ও গবেষক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধিকবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং গণতান্ত্রিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অসাধারণ দৃঢ়চেতা। রাজনীতি সংগ্রাম ও কঠিন সময়ে মধ্যেও তিনি ধৈর্যের ও আত্মমর্যাদার পরিচয় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার মামলায় দীর্ঘদিন কারাবাস করেছেন। এটি আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। তিনি বলেছিলেন- ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসায় শান্তির সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
মোদাচ্ছির হোসেন বলেন, আমি দৃঢভাবে বিশ্বাস করি, এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক বয়ান নয়। আমার বিবেচনায় তিনি একজন বিচক্ষণ, সত্যিকারের একজন দেশনেত্রী। আমি সরকারকে অনুরোধ করবো খালেদা জিয়াকে যেন সর্বোচ্চ সম্মানসূচক রাষ্টীয় উপাধী দেয়া হয়।
অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, খালেদা জিয়া এই দেশকে ভালোবাসতেন। এই জনপদকে ভালোবাসতেন। ভালোবাসতেন এই দেশের পানি। এই পানির জন্য তিনি সংগ্রাম করেছেন। ভারত সরকার যখন টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলো, তখন তিনি আমাদের বলেছিলেন- একটা বড় আকারের সেমিনারের আয়োজন করতে। যাতে আমরা দাবি জানাতে পারি।
তিনি বলেন, আজকে এখানে তাকে স্মারণ করতে গিয়ে তার তিনটি উক্তি আমরা চিরকাল মনে রাখবো, এক-দেশের বাইরে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভূ নেই, দুই-আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা, ওদের হাতে বন্ধিশৃঙ্খল এবং তিন-দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, দেশই আমার শেষ ঠিকানা। এই মন্ত্রগুলো ধারণ করলে তার দল এবং এই দেশ রক্ষা পাবে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সময়ের মৃত্যু হয়নি, ইতিহাসের মৃত্যু হয়নি। আগামী দিনের যে ইতিহাস এই জনপদে সৃষ্টি হবে, তার ড্রাইভিং ফোর্স হবে বেগম খালেদা জিয়া ও তার আদর্শ।
আইন উপদেষ্টা ড. আফিস নজরুল বলেন, সবাই আমরা বেগম জিয়ার জন্য মুক্তভাবে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ব্যক্ত করতে পারছি। আর উনার (খালেদা জিয়া) অদ্ভুত একটা বিচার হয়েছিল। তিনি আইনজীবীর কথা শুনে বিস্ময়ের সঙ্গে বলেছিলেন- কী আমি এতিমের টাকা মেরে খেয়েছি! এই বাক্যটাকে বিচারক লিখেছিলেন- বেগম জিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি কাজটা করেছেন। এতো জঘন্য বিচার হয়েছে। এটার বিরুদ্ধে বিবৃতির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। মানে ফোন করেছি। ৪ জনের বেশি রাজি হননি। ৪ জনের বেশি না হওয়ায় পত্রিকায় দিতে পারিনি। উনি (খালেদা জিয়া) যখন মুমূর্ষু অবস্থায়, উনাকে যেনো বিদেশে পাঠানো হয় এজন্য অনেক মানুষকে অনুনয় করেছি। অনেকের হয়ত ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সাহস করেননি।
আইন উপদেষ্টা বলেন, তিনি যখন জীবিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছিলাম, বেগম জিয়া ভালো থাকবে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি, উনি অবশ্যই এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কী ভালো আছে? বাংলাদেশকে যদি ভালো থাকতে হয়, বেগম জিয়াকে ইন্টারনালাইজড করতে হবে।
জাতীয় দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, বিগত সরকার যখন তাকে নানাভাবে নিষ্পেষণ করলো, হাউজ অ্যারেস্ট করা হলো, যেখানে হৃদয়বিদারকভাবে তার চিকিৎসা হলো না। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট তিনি যে বাণী দিলেন, সেটা ধ্বংস ও প্রতিহিংসার বিপরীতে তার উদারতা। তার এই মানসিকতা আমরা মনেপ্রাণে ধারণ করতে পারলে আগামীর বাংলাদেশ হবে ভিন্ন রকম।
জ্ঞান ভিত্তিক ভবিষ্যৎ দেশ গড়তে তার যে আহ্বান, সেদিকে আমাদের যেতেই হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীর নেতৃত্বকে বলবো, খালেদা জিয়ার যে শেষবাণী, জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গড়ার, সেটা যেন আমরা সবাই ধারণ করি।
নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার মৃত্যুর মধ্যদিয়ে পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে গেছেন যে, তিনি কেবলমাত্র জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী ছিলেন না, সত্যিকার অর্থেই মানুষের এবং দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। যা দলমত নির্বিশেষে জানাজায় লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া রাজনীতিক হিসেবে তার জন্য যেমন সাফল্য ছিলো, সেই সাফল্য মোকাবিলা করতে গিয়ে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যে আঘাত দিয়েছেন, তার পরিবারের ওপর যে সমস্ত দুর্ভোগ গেছে- তিনি কখনও প্রকাশ্যে তার বেদনাবোধের কথা, নিন্দাবোধের কথা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করেননি।
নূরুল কবীর বলেন, আপাত দৃষ্টিতে এটা খুব সহজ কথা হতে পারে। কিন্তু এই যে সংযম, পরিমিত বোধ এবং আত্মমর্যাদা রাজনীতিতে অনেক অনুসারি থাকবেন, মত পথ দর্শন থাকবে। কিন্তু তিনি যে রাজনীতির, সংস্কৃতিরই হোন না কেন, এই বিষয়টা আজকের বাংলাদেশে অসহিষ্ণুতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। এটা তাকে ইতিহাসে সারাজীবন অনন্যতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।
আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও সংগ্রামের পতাকা আজ তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। এটি যেমন গর্বের বিষয়, তেমনি এক গভীর দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জেরও বিষয়। বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তান হওয়া নিঃসন্দেহে গর্বের। কিন্তু একই সঙ্গে এটি একটি ভয়ের ও শঙ্কার বিষয়ও। কারণ বাংলাদেশের মানুষ সবসময় তারেক রহমানকে তার পিতা ও মাতার সঙ্গে তুলনা করবে। এই তুলনা অত্যন্ত কঠিন- যেকোনো মানুষের জন্যই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে মাত্র দু’জন নেতা-নেত্রী জন্মেছেন, যাদের সমতুল্য হওয়া কঠিন। আর তারা যদি পিতা-মাতা হন, তাহলে সেই সন্তানদের জন্য দায়িত্ব আরও অনেক বেশি কঠিন হয়ে ওঠে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, খালেদা জিয়ার প্রধানতম তিনটা বড় গুণ ছিল। তিনি শুনতেন, তিনি প্রশ্ন করতে জানতেন এবং তিনি সিদ্ধান্ত নিতেন দেশের স্বার্থ ও বৈশ্বিক গুরুত্ব বিবেচনায়। আমি বিশ্বাস করি, তাকে জাতি মনে রাখবে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জাতির এই সন্ধিক্ষণে তার (খালেদা জিয়া) উপস্থিতি, পরামর্শ, দিক-নির্দেশনা সম্ভবত সব থেকে বেশি প্রয়োজন ছিল। উনি হয়ত চাইতেন আজকের এই চ্যালেঞ্জগুলো নীতিনিষ্ঠভাবে, দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা থেকে যৌথভাবে মোকাবিলা করতে। উনার জীবন বহুমাত্রিক। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল উনার ২ শাসনামলে ৪ বার নীতিবিষয়ক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিহিংসা থেকে সরে আসার বার্তার কথা উল্লেখ করে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, উত্থানপর্বে বেগম খালেদা জিয়া বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে দলকে উত্তরণ করেন। সরকার পরিচালনায় আরেকটি অবস্থায় তাকে দেখা গেছে। আর ২০০৭ পরবর্তী সময়ে তাকে নিগৃহীত হতে হয়েছে, তিনি ভিকটিম হয়েছেন নানাভাবে। তবে উত্থানপর্বেই আপসহীনতার তকমা তিনি পেয়ে গেছেন। শেষপর্বে তিনি যে ভিকটিম হয়েছেন, সেটা মানুষের কাছে সহানুভূতির সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বক্তব্য প্রতিহিংসা থেকে সরে আসার বার্তা দেয়। মনে রাখতে হবে, অন্যকে আলো দিতে হলে নিজেকে মোমবাতি হতে হয়।
যায়যায় দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, যে করেই হোক, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যেন হয়। সরকার বলছে ওইদিনটি হবে উৎসবের, আমরাও তেমনটাই চাই। পুলিশ বাহিনী ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে সেটাই প্রত্যাশা। সবাই উৎসাহের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, ভোট দেবেন। অন্যথায় এই শোকসভা ব্যর্থ হবে। শোককে শক্তিতে পরিণত করবেন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার মাধ্যমেই। ভোট বানচালের কোনো ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেবেন না।
আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেছেন, খালেদা জিয়ার সরকারের সময় অবকাঠামো উন্নয়ন, আইনের শাসন, বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার নীতি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সাহায্য করেছে।
মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘একই সময়ে সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তাঁর (খালেদা জিয়া) কিছু উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার শিক্ষা ও মানুষের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নেওয়া কর্মসূচিগুলোর কথা উল্লেখ করেন।
একজন রাষ্ট্রনায়কের মূল্যায়ন কেবল ক্ষমতায় থাকাকালীন কী করেছেন, তা দিয়ে হয় না বলে উল্লেখ করেন আইসিসিবির সভাপতি। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার বাইরে থাকলেও তিনি (খালেদা জিয়া) কীভাবে সময় কাটিয়েছেন এবং সংকট মোকাবিলা করেছেন, সেটাও ইতিহাস মনে রাখে। দেশ ও রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সাবেক এই সরকার প্রধানের স্মরণে আয়োজিত সভায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার।
শোকসভায় আরও যোগ দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।
খালেদা জিয়ার স্মরণে এ শোকসভা ঘিরে নিরাপত্তায় ছিলেন সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সভাস্থলে মানুষের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।