গোসল না করে জুমার নামাজ পড়া যাবে কি? ইসলামের দৃষ্টিতে কি বলে
জুমার বা শুক্রবার ইসলামের দৃষ্টিতে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনের মর্যাদা ও তাৎপর্য অত্যন্ত বেশি। ‘জুমা’ শব্দের অর্থ একত্র হওয়া। এ দিন মুসলমানরা একত্র হয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করেন।
কোরআন মাজিদে জুমা নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা রয়েছে। সেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেন—
“হে ঈমানদারগণ! জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য ডাকা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং কেনাবেচা ত্যাগ করো।”
(সুরা জুমা, আয়াত: ৯-১০)
জুমার দিনে গোসল সম্পর্কে হাদিস কী বলে?
জুমার দিনে গোসল করার বিষয়ে একাধিক সহিহ হাদিস রয়েছে।
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“জুমার দিন প্রত্যেক বালিগের জন্য গোসল করা কর্তব্য।”
(সহিহ বুখারি: ৮৩৫, সহিহ মুসলিম: ১৮৩০)
আরেক হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি জুমার খুতবার সময় মসজিদে এলে উমর (রা.) তাকে বলেন—
“তুমি কি শুধু অজু করেছ? অথচ রাসুল (সা.) গোসল করে আসার নির্দেশ দিতেন।”
(সহিহ মুসলিম: ১২২৮)
এ ছাড়া রাসুল (সা.) আরও বলেছেন—
“তোমাদের কেউ জুমায় এলে সে যেন গোসল করে নেয়।”
(সহিহ মুসলিম: ১৮২৫)
তাহলে গোসল ছাড়া কি জুমার নামাজ আদায় হবে?
এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কিছু মতভেদ রয়েছে।
অধিকাংশ আলেমের মতে, জুমার দিনে গোসল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত (সুন্নতে মুয়াক্কাদা)।
কিছু আলেম বলেন, যদি কারও ওপর গোসল ফরজ না হয় এবং শরীরে অপবিত্রতা না থাকে, তবে গোসল ছাড়া শুধু অজু করেও জুমার নামাজ আদায় সহিহ হবে।
চূড়ান্ত কথা কী?
গোসল না করলেও জুমার নামাজ বাতিল হবে না, যদি অজু থাকে
তবে ইচ্ছাকৃতভাবে গোসল না করা সুন্নতের খেলাফ
শরীরে ঘাম, দুর্গন্ধ বা ময়লা থাকলে গোসল করা অত্যন্ত জরুরি
জুমার পূর্ণ ফজিলত ও সওয়াব পেতে গোসল করেই নামাজে যাওয়া উত্তম
সারসংক্ষেপে বলা যায়, গোসল জুমার নামাজের শর্ত নয়, কিন্তু এটি জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও ইসলামের সৌন্দর্যের অংশ।