৬ বছরে রুমিন ফারহানার আয় বেড়েছে ২২ গুণ, একাধিক ফ্ল্যাট-জমি
বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানার ঘোষিত আয় ও সম্পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে ৬ বছরের ব্যবধানে। এই সময়ে তার বার্ষিক আয় বেড়েছে ২২ গুণের বেশি। একইসঙ্গে স্থাবর সম্পদের তালিকা বেড়েছে কয়েকগুণ।
২০১৯ সালে তার জমা দেওয়া হলফনামার সঙ্গে ২০২৫ সালে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জমা দেওয়া হলফনামার তুলনায় এই তথ্য পাওয়া গেছে।
নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করা ফারহানা ২০১৯ সালে বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে আইন পেশা থেকে আয় ছিল ৪ লাখ টাকা এবং ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৩৪ হাজার ১০০ টাকা।
আর ২০২৫ সালের হলফনামায় তার ঘোষিত বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। অর্থাৎ ৬ বছরের ব্যবধানে তার আয় বেড়েছে অন্তত ২২ গুণ।
স্থাবর সম্পদে বড় পরিবর্তন
২০১৯ সালে রুমিন ফারহানা তার স্থাবর সম্পদ হিসেবে মাত্র একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করেন, যা তিনি মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিলেন।
এছাড়া ২০১৯ সালের ৩ অগাস্ট একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ২ মাসের মাথায় তৎকালীন সরকারের কাছে ১০ কাঠা জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছিলেন রুমিন ফারহানা।
সংসদ সদস্যদের প্যাডে করা ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় তার নিজের নামে কোনো ফ্ল্যাট, জমি বা বসতভিটা নেই। অথচ ৬ বছর পর জমা দেওয়া হলফনামায় দেখা যায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় তার নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, মায়ের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাটটি ছাড়াও তার মালিকানায় রয়েছে- ধানমন্ডির ল্যাবরেটরি রোডে ৫ কাঠা জমি, একই এলাকায় পাঁচটি ফ্ল্যাট, এবং পুরান ঢাকার পল্টনে ১ হাজার ২৫৮ দশমিক ৮৮৪ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক স্পেস, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা।
এসব সম্পত্তির অধিকাংশই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সেগুলোর জন্য কোনো ক্রয়মূল্য দেখানো হয়নি।
নগদ অর্থ বেড়েছে ৩ গুণের বেশি
২০১৯ সালে তার হাতে নগদ অর্থ ছিল ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪২২ টাকা। ২০২৫ সালের হলফনামায় সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩০ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৪ টাকা এবং হাতে নগদ রয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৯ টাকা।
দুটি হলফনামাতেই তার নামে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার থাকার তথ্য রয়েছে, যা উপহার হিসেবে পাওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ব্যাংক আমানত, শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনো বিনিয়োগ তার নামে নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা তিনটি মামলা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান ছিল। সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী, নতুন আরেকটি মামলাসহ আগের সেসব মামলা একই আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে।
নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব
নতুন হলফনামা অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে রুমিন ফারহানা মোট ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছেন। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা আসবে তার নিজস্ব আয়ের উৎস থেকে (আইন পেশা) এবং ৫ লাখ টাকা ধার নেবেন খালাতো ভাই প্রবাসী গালিব মেহেদীর কাছ থেকে।
বিএনপি এবার সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে তাদের জোটের শরিক দলের মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে দলকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।
আর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন রুমিন ফারহানা। গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
পরে গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোট প্রার্থী ১২ জন। এ আসনের সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।