আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন এ ঘোষণা দেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নির্বাহী হাকিম হেদায়েত উল্যাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার মনোনয়নপত্রের সাথে দলীয় যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, সেখানকার স্বাক্ষরের সাথে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরে গড়মিল রয়েছে।
“এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।“
চট্টগ্রাম নগরীর হাটহাজারী উপজেলা ও নগরীর ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৫ সংসদীয় এলাকা। এ আসনে তিনিসহ মোট ১০ জন মনোনয়নপত্র পত্র জমা দিয়েছেন।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ওপর আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সুযোগে গেল ৯ অগাস্ট ‘ঐক্য সম্মেলন’ করে আলাদা হয়ে যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদারসহ দলেন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। রওশনের অংশ থেকে বেরিয়ে কাজী ফিরোজ রশীদ, আবু হোসেন বাবলাও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
গত ৮ ডিসেম্বর আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি-জেপির নেতৃত্বে ২০ দলের সমন্বয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) নামের একটি জোটের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। এ জোটের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়ার আগে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিএনপির টিকেটে ১৯৭৯ সালে এই আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ১৯৮৬ ও ৮৮ সালের নির্বাচনেও জয় পান তিনি।
আর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মহাজোট থেকে নির্বাচন করে জয় পান আনিসুল ইসলাম। তার পরের তিন সংসদে জাতীয় পার্টির টিকেটে তিনি সংসদ সদস্য হন। আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে তিনি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্বে। এরশাদ সরকারের আমলেও মন্ত্রী ছিলেন আনিসুল ইসলাম।
আরো ২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-কোষাধ্যক্ষ এসএম ফজলুল হক ও সাবেক হুইপ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে সাকিলা ফারজানার মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।
নির্বাহী হাকিম হেদায়েত উল্যাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের যে সই জমা দিতে হয়, সেখানে গড়মিল পাওয়ায় ফজলুল হক ও সাকিলা ফারজানার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
তারা দুজনই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে এ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।