সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৯ ১৪৩২, ২৩ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালমান-আনিসুলের বিচার শুরু গুলি বের করা যায়নি, টেকনাফের হুজাইফার অবস্থার উন্নতি নেই আইনশৃঙ্খলার উন্নতি নেই, এটি সরকারের ব্যর্থতা: মির্জা ফখরুল ৫০ বছর পর চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছে নাসা, চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ভাইরাল পোস্টে নিজেকে ‘ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী হত্যা: সন্দেহভাজন মিলন র‌্যাবের হাতে ধরা চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতের ফজলুলের প্রার্থিতা ফিরল না আপিলেও হজ ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইরানের ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৫০০ ছাড়িয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে শক্ত বিকল্প ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতার সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প

ইসলাম

রজব মাস ও মেরাজের তাৎপর্য

 প্রকাশিত: ১২:৪০, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

রজব মাস ও মেরাজের তাৎপর্য

আত্মশুদ্ধিইসলামি বর্ষপঞ্জির সপ্তম মাস রজব-মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মান প্রাপ্ত একটি মাস। যা রমজানের আগমনি বার্তা বহন করে এবং মুমিনের হৃদয়ে ইবাদতের আগ্রহ জাগিয়ে তোলে। গাফিলতির অন্ধকার থেকে আত্মশুদ্ধির আলোয় ফিরে আসার জন্য রজব মাস এক অনন্য সুযোগ। রজব মাস শুরু হলে রসুল (সা.) একটি দোয়া পড়তেন, এর বাংলা অর্থ হলো, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন। (বায়হাকি-ইমান) এই দোয়ার মাধ্যমে রসুল (সা.) রজব মাসকে রমজানের প্রস্তুতির সূচনা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন রয়েছে-রজব ও শাবানে বরকত লাভ, নেক আমলের তওফিক বৃদ্ধি, ইমান ও সুস্থতার সঙ্গে রমজান পর্যন্ত পৌঁছার প্রার্থনা। রজব মাস আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়-যাতে রমজানে সর্বোচ্চ ফায়দা অর্জন করা যায়।

রজব মাসের মর্যাদা : রজব মাস চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারো, এর মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস’ (সুরা তওবা-৩৬)। হাদিসে এই চার মাসের নাম নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে। রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘বছর বারো মাসে; এর মধ্যে চারটি সম্মানিত, এর একটি হলো মুদার গোত্রের রজব’ (সহিহ বুখারি)। ইসলামের ইতিহাসে রজব মাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অধিকাংশ আলেমের মতে, এই মাসেই সংঘটিত হয়েছিল মহান মেরাজ-যেখানে রসুল (সা.) আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভ করেন। গ্রহণ করেন উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। এটি রজব মাসকে আরও মর্যাদাসম্পন্ন করে তোলে। মেরাজ একটি অলৌকিক, গৌরবময় ও শিক্ষাপূর্ণ ঘটনা। এটি শুধু রসুল (সা.)-এর জীবনের এক বিস্ময়কর অধ্যায় নয়; বরং সমগ্র উম্মতের জন্য ইমান, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির এক চিরন্তন দিকনির্দেশনা। শারীরিক ও আত্মিক-উভয় দিক থেকেই মেরাজ ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীজি (সা.)-এর জন্য এক বিশেষ সম্মান এবং কষ্ট জর্জরিত সময়ে সান্ত্বনার অনন্য নিদর্শন।

মানব ইতিহাসের আকাশে এমন কিছু ঘটনা আছে, যা কেবল সময়ের সীমা অতিক্রম করে না-মানব বুদ্ধি ও কল্পনার সীমাকেও অতিক্রম করে যায়। পবিত্র শবে মেরাজ তেমনি এক অলৌকিক ও আধ্যাত্মিক ঘটনা। যা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনে যেমন অনন্য, তেমনি সমগ্র মানবজাতির জন্যও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও নবুয়তের মর্যাদার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। মেরাজ সংঘটিত হয় হিজরতের পূর্বে, মক্কা জীবনের অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত সময়ে। প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা.) ও স্নেহশীল চাচা আবু তালিবের ইন্তেকালের পর রসুল (সা.) ছিলেন গভীর শোক ও কষ্টে নিমজ্জিত। তায়েফে দাওয়াত দিতে গিয়ে তিনি অপমানিত ও নির্যাতিত হন। এমন চরম বেদনাবিধুর মুহূর্তে আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবীকে দিলেন এক অনন্য সম্মান-আসমানের সফর। যা ইতিহাসে ইসরা ও মেরাজ নামে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। এক রাতে আল্লাহর কুদরতে রসুল (সা.)-কে মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে পবিত্র বাহন বুরাক-এ আরোহণ করিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বায়তুল মুকাদ্দাসে মসজিদুল আকসায়। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘পবিত্র তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে এক রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় ভ্রমণ করিয়েছেন’ (সুরা আল-ইসরা-১)। নবীজি (সা.)-এর এই পর্যন্ত ভ্রমণকে ইসরা বলা হয়। মসজিদুল আকসায় তিনি পূর্ববর্তী নবী-রসুলদের ইমামতি করেন। এটি ছিল নবুয়তের ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্বের এক ঐতিহাসিক ঘোষণা। এরপর শুরু হয় প্রকৃত মেরাজ-আসমানে আরোহণ। মেরাজ শব্দের অর্থ-ঊর্ধ্বগমন। হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে রসুলুল্লাহ (সা.) একে একে সাত আসমান অতিক্রম করেন। প্রতিটি আসমানে তিনি পর্যায়ক্রমে সাক্ষাৎ লাভ করেন আদম (আ.), ঈসা (আ.), ইয়াহইয়া (আ.), ইউসুফ (আ.), ইদ্রিস (আ.), হারুন (আ.), মুসা (আ.) ও ইব্রাহিম (আ.)-এর মতো মহান নবীদের। এসব সাক্ষাৎ ছিল ইমানের উত্তরাধিকার ও তাওহিদের এক মহাসম্মিলন। সবশেষে রসুল (সা.) পৌঁছে যান সিদরাতুল মুনতাহায়- সৃষ্টির সীমান্তে। সেখানে তিনি লাভ করেন আল্লাহর সান্নিধ্য, যা কোনো মানবের কল্পনায়ও ধরা দেয় না। এই মহিমান্বিত মুহূর্তেই উম্মতের জন্য ফরজ করা হয় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ-যা মেরাজের শ্রেষ্ঠ উপহার।

মেরাজ শুধু একটি অলৌকিক ভ্রমণের কাহিনি নয়; এটি বিশ্বাস, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার এক চিরন্তন শিক্ষা। দুঃখের রাতের পর যে আলোর সকাল আসে, মেরাজ তারই জীবন্ত প্রমাণ। এই ঘটনা মুসলমানদের স্মরণ করিয়ে দেয়-পৃথিবীর সব সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে রয়েছে আল্লাহর করুণা ও রহমতের অসীম আকাশ। মেরাজ আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রমাণ করে, প্রমাণ করে-আল্লাহর ক্ষমতার কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই। সময় ও স্থানের সীমা তিনি ইচ্ছামতো অতিক্রম করাতে পারেন।