সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৯ ১৪৩২, ২৩ রজব ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইরানের

 প্রকাশিত: ১২:১৩, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের তরফে হামলা চালানো হলে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

পশ্চিম এশিয়ার দেশটিতে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে পাঁচশ ছাড়িয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছে। তবে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি নেতারা তাকে ফোন করেছেন এবং তারা ‘আলোচনা করতে চান’।

ট্রাম্প এও বলেছেন, আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ‘পদক্ষেপ নিতে হতে পারে’।

যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপের কথা ভাবছে তা ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি। তবে তিনি রোববার বলেছেন, “আমরা কিছু কঠোর বিকল্প বিবেচনা করছি।”

এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, ট্রাম্পকে ইরানের ওপর সামরিক হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে থাকতে পারে অনলাইনে সরকারবিরোধী শক্তির প্রচার বাড়ানো, সাইবার হামলা চালানো বা আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইসরায়েল এবং এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ও নৌ-পরিবহন কেন্দ্রগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ এখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবিতে রূপ নিয়েছে।

ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ‘খোদার শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের ‘একদল দুষ্কৃতকারী’ বর্ণনা করে খামেনি বলেছেন, তারা ট্রাম্পকে ‘খুশি’ করতে চায়।

ইরান রোববার তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে এবং নিহতদের ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের জাতীয় যুদ্ধে শহীদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তেহরানের একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছে, “এখানকার পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। আমাদের অনেক বন্ধু মারা গেছে। তারা সরাসরি গুলি চালাচ্ছে। পুরো এলাকা এখন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো, রাস্তায় রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। তারা ট্রাকে করে মরদেহ নিয়ে যাচ্ছে।”

তেহরানের কাছের একটি মর্গের ভিডিও থেকে বিবিসি অন্তত ১৮০টি মৃতদেহের ব্যাগ দেখার কথা বলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা সারাদেশে ৪৯৫ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যুর খবর যাচাই করেছে। গত দুই সপ্তাহের অস্থিরতায় প্রায় ১০,৬০০ মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে সংস্থাটির ভাষ্য।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন। তিনি দাবি করেন, বাইরে থেকে সন্ত্রাসীদের দেশে ঢোকানো হয়েছে এবং বাজার ও মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে।

বিবিসি ভেরিফাই বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী তেহরান, কেরমানশাহ এবং বুশেহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে বলে তারা নিশ্চিত হয়েছে।

এদিকে ইরানের শেষ শাহর নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভি সোশাল মিডিয়া বার্তায় বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র এখন ‘ভাড়াটে সৈন্যের অভাবে’ ভুগছে; অনেক নিরাপত্তা রক্ষী নির্দেশ মানতে অস্বীকার করছে।

বিক্ষোভকারীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, “আমি খুব শিগগির তোমাদের পাশে থাকব।”

২০২২ সালে মাশা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া আন্দোলনের পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ। সেই আন্দোলনে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল।