রোববার ১১ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৮ ১৪৩২, ২২ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেন: দুদক চেয়ারম্যান হাটহাজারীতে ‘ছুরিকাঘাতে’ মাইক্রোবাস চালক নিহত কর ফাঁকির মামলায় বিএনপি নেতা দুলু খালাস আমেরিকানদের অবিলম্বে ভেনেজুয়েলা ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এআই খেলনা বিতর্ক: নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ফেরার চ্যালেঞ্জ ইন্টারনেট বন্ধের মধ্যেই ইরানে নতুন করে বিক্ষোভ হলফনামা: প্রবাসী স্বজন ও গণচাঁদায় মনীষার ভোট শামা ওবায়েদের আয় কমলেও সম্পদ বেড়েছে নির্বাচন কমিশনে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সভা আপিলের দ্বিতীয় দিনে শুনানি নিচ্ছে ইসি সোমালিল্যান্ডকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি, বাংলাদেশের প্রত্যাখ্যান-নিন্দা বিশ্বে বায়ুদূষণে শীর্ষস্থানে ঢাকা সিরিয়ায় আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যাপক’ হামলা

ইসলাম

জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অর্পিত আমানত

 প্রকাশিত: ১৭:৫০, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অর্পিত আমানত

মানুষ তার সম্পদ হারালে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে, কিন্তু যে মুহূর্ত হারিয়ে যায়, তা আর কখনো ফিরে আসে না। মহান আল্লাহ মানুষকে দুনিয়ার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। এই সময়েই তাকে তার কর্তব্য পালন করতে হবে, আমল করতে হবে এবং নিজের সর্বশেষ গন্তব্যের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

সময় সুযোগ তৈরি করে দেয় : সময় এমন একটি নিয়ামত, যা বিপরীত অবস্থা আসার আগেই কাজে লাগানো উচিত। কারণ, একবার পরিস্থিতি বদলে গেলে সুযোগ আর থাকে না। তাই রাসুল (সা.) বলেন : পাঁচটি বিষয় আসার আগে পাঁচটি বিষয়কে গনিমত মনে করো : যৌবনের আগে বার্ধক্য, সুস্থতার আগে অসুস্থতা, স্বচ্ছলতার আগে দারিদ্র্য, অবসরের আগে ব্যস্ততা, এবং জীবনের আগে মৃত্যু।’ (সুনানে বাইহাকি, হাদিস : ১০২৪৮)

সময়ের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে : মানুষ তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের কৈফিয়ত আল্লাহর কাছে দিতে বাধ্য। রাসুল (সা.) বলেন : কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পা নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে চারটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে : তার জীবন—সে কীভাবে তা ব্যয় করেছে, তার জ্ঞান—সে কিসে কাজে লাগিয়েছে, তার সম্পদ—কোথা থেকে তা অর্জন করেছে এবং কীভাবে তা ব্যয় করেছে এবং তার দেহ—কিভাবে তা ব্যবহার করেছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৭)

প্রতিটি মুহূর্ত অর্পিত আমানত : আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য সময়কে একটি আমানত হিসেবে দিয়েছেন, যা এমনভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে হবে, যাতে তা তার দুনিয়া ও আখিরাতে উপকারে আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন : ‘আমি কি তোমাদের এত দীর্ঘ জীবন দান করিনি, যাতে যে উপদেশ গ্রহণ করতে চায় সে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে? আর তোমাদের কাছে কি সতর্ককারী আসেনি?’ (সুরা ফাতির, আয়াত : ৩৭) 

আর রাসুল (সা.) বলেন : ‘আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য সব রকম ওজরের রাস্তা বন্ধ করেছেন, যার আয়ু ৬০ বছর পর্যন্ত পৌঁছেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪১৯)

সময় হলো ইবাদতের পাত্র : সময় হলো ইবাদতের সেই পাত্র, যার সূচনা হয় শাহাদাতের ঘোষণার মাধ্যমে, আর যার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে মৃত্যু পর্যন্ত। এ প্রসঙ্গে ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন : আমি রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম—‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি?’ তিনি বলেন : ‘নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা.....।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৯৫) 

অতএব নির্ধারিত সময়ে ইবাদত আদায় করাই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।

অতিবাহিত প্রতিটি মুহূর্তই অপূরণীয় : সময় কেবল এক দিকেই অগ্রসর হয়—সেটি মানুষকে ধীরে ধীরে তার অনিবার্য গন্তব্যের দিকে নিয়ে যায়। অতএব যে সময় একবার হারিয়ে যায়, তা পূরণ করার আর কোনো সুযোগ থাকে না। হাসান বসরি (রহ.) বলেন : ‘আমি এমন মানুষদের দেখেছি, যারা তাদের দিনার ও দিরহামের চেয়েও নিজেদের সময় নিয়ে বেশি কৃপণ ছিলেন।’ 

কেননা প্রকৃত জ্ঞানী সেই ব্যক্তি, যে তার সম্পদের চেয়েও তার সময়কে বেশি সযত্নে সংরক্ষণ করে। সে অত্যন্ত সতর্ক থাকে—তার সময়ের একটি মুহূর্তও যেন কল্যাণ ছাড়া অন্য কোথাও ব্যয় না হয়। কারণ, হারিয়ে যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলেও হারিয়ে যাওয়া সময় কখনো ফিরে আসে না।

সব সময়ের মর্যাদা একরকম নয় : নবী করিম (সা.) হাদিসে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত, যে কিছু সময় অন্য সময়ের তুলনায় বহুগুণ মর্যাদাসম্পন্ন। যেমন—লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। শুক্রবারের একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত অন্য দিনের কোনো মুহূর্তের মতো নয়। আর ফজরের পূর্ববর্তী মুহূর্তগুলোর মর্যাদা অন্য সময়ের সঙ্গে তুলনীয় নয়। তাহলে কীভাবে একজন মুমিন এসব মহামূল্যবান রাত ও মুহূর্ত অবহেলায় নষ্ট করতে পারে—যখন সে জানে, এগুলো আর কখনো ফিরে আসবে না, আর যেকোনো মুহূর্তে সে নিজেকেই মৃতদের কাতারে আবিষ্কার করতে পারে?