চবির সেই সিরাজুল পেলেন পদোন্নতি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের ‘মালিক’ ও ‘জমিদার’ দাবি করা জামায়াত নেতা সিরাজুল ইসলাম শিক্ষালয়টির সেকশন অফিসার থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন।
শুক্রবার ৫৬৫তম সিন্ডিকেটে তার পদোন্নতি চূড়ান্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান।
সিরাজুল ইসলামের চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজীদ আংশিক) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর তাকে হাটহাজারী উপজেলা আমিরের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
গত ৩০ অগাস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন একটি ভবনের ভাড়াটিয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীর বিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষ বাধে। রাতে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ পরদিন পর্যন্ত চলে; পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৪৪ ধারা জারি করতে হয় স্থানীয় প্রশাসনকে।
এরপর ৪ সেপ্টেম্বর সেখানকার জোবরা গ্রামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সিরাজুল ইসলাম বলেছিলেন, “আমরা হচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী এলাকার মালিক। আমরা জমিদার, ঠিক কিনা? জমিদারের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে, এটা কী আমরা মেনে নিতে পারি? কখনোই না।
“আমরা অতীতেও মেনে নিই নাই; সামনেও মেনে নিব না। এ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে আমাদের বুকের উপর। আমরা হচ্ছে এই জায়গার মালিক।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তার বক্তব্যের জন্য যতটুকু শাস্তি পাওয়ার কথা, তার থেকে বেশি শাস্তি তিনি পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তার বক্তব্যকে ঘিরে তেমন কোনো শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না।
“এ ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয় তাকে শোকজ করেছে এবং উনি পরবর্তীতে শোকজের জবাব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। কেউ কোনো জায়গার যোগ্য হলে অবশ্যই তার যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে হবে।"