সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৯ ১৪৩২, ২৩ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

আনিসুল হক ও তার বান্ধবীর নামে ২৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা মুছাব্বির হত্যা: এক ‘শুটার’সহ গ্রেপ্তার ৪ অন্তর্বর্তী সরকারই ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচার চালাবে দ্বিতীয় দিনের আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫৮ জন হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেন: দুদক চেয়ারম্যান কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু: বাস মালিক গ্রেপ্তার কর ফাঁকির মামলায় বিএনপি নেতা দুলু খালাস আমেরিকানদের অবিলম্বে ভেনেজুয়েলা ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এআই খেলনা বিতর্ক: নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ফেরার চ্যালেঞ্জ ইন্টারনেট বন্ধের মধ্যেই ইরানে নতুন করে বিক্ষোভ শামা ওবায়েদের আয় কমলেও সম্পদ বেড়েছে নির্বাচন কমিশনে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সভা বিশ্বে বায়ুদূষণে শীর্ষস্থানে ঢাকা সিরিয়ায় আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যাপক’ হামলা

রাজনীতি

সরকার একটি দলে ‘ঝুঁকেছে’, নির্বাচন ‘পাতানো হতে পারে’: জামায়াতের তাহের

 প্রকাশিত: ১৪:৩৮, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

সরকার একটি দলে ‘ঝুঁকেছে’, নির্বাচন ‘পাতানো হতে পারে’: জামায়াতের তাহের

সরকার ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী কিছুদিন ধরে 'একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের' দিকে 'ঝুঁকে পড়েছে' বলে অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

এতে করে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট 'পাতানো নির্বাচনে' রূপান্তরিত হওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

বুধবার দলীয় প্রধানের বসুন্ধরা কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে কোনো দলের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, "গত এক দুই সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে সরকার এবং আমাদের 'ল এনফর্সিং অথরিটি' যারা আছে ইনক্লুডিং সেনাবাহিনী যেভাবে একটি বিশেষ দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং প্রশাসন যেভাবে একটা দলের আনুগত্য দেখাচ্ছে; এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে আগামী নির্বাচনটি কি আবার পাতানো নির্বাচন হবে কী না অতীতের নির্বাচনগুলোর মত।

"আমরা মনে করি এ ধরনের পাতানো নির্বাচন বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।"

নিরপেক্ষ হয়ে বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য ভূমিকা রাখতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এ দিন সকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে তার বসুন্ধরা কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দলটির নায়েবে আমির তাহের।

সে সময় তাহের বলেন, সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক পাঠানোকে কেন্দ্র করে মূল আলোচনা হলেও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়েও তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাহের বলেন, "আমরা বলেছি যে বাংলাদেশে একটা ফেয়ার এবং ক্রেডিবল ইলেকশন অত্যন্ত জরুরি। কারণ বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের যে ক্রাইসিস তৈরি হয়েছিল এর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল সুষ্ঠ এবং সঠিক নির্বাচনের অভাব।"

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্ট 'অচলাবস্থা' নিরসনে সুষ্ঠ এবং অবাধ নির্বাচন প্রয়োজন বলে জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে বলে মন্তব্য করে দলটির নায়েবে আমির বলেন, “যদি আগামী নির্বাচনটি অবাধ এবং সুষ্ঠ না হয়, নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে ক্রাইসিস কিন্তু শেষ হবে না। ক্রাইসিস আবার নতুন করে তৈরি হবে এবং এটা আরো গভীরতর হবে।"

দলের পক্ষ থেকে এ আশঙ্কার কথা ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তাহের।

আসন্ন নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে প্রতিনিধি দল আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বলে জানান তাহের।

তিনি বলেন, "এই নির্বাচনেই বিদেশি পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্যে তারা এগ্রি করেছে এবং বাংলাদেশও করেছে। কারণ এর আগের নির্বাচনগুলো আসলে পার্টিসিপেটেড ছিল না। আমরা বলেছি আমরা এটাকে ওয়েলকাম করি।"

নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশ-বিদেশের অংশীজনদের নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামী ভূমিকা রাখবে বলে প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তাহের।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে একটি সূষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি, নির্বাচন সুষ্ঠ এবং অবাধ হওয়ার জন্যে যা কিছু করার প্রয়োজন, জামায়াতে ইসলামী সেটা করবে এবং সহযোগিতা করবে।”