ব্রেকিং:
তালিকা পেলে এ মাসেই দেয়া হবে স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাকারবার্গকে তলব করেছেন মার্কিন সিনেট বিভাগ পাচ্ছে কুমিল্লা, নাম হবে মেঘনা: প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার   ২২ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৭ ১৪২৮,   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
পুলিশের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে ফের মোটরসাইকেলে আগুন দিলো চালক দীর্ঘ ১৯ মাস পর স্বশরীরে ক্লাসে ফিরল রাবি শিক্ষার্থীরা লালমনিরহাটে বিপদসীমার নিচে তিস্তার পানি নারায়ণগঞ্জে ১৫ দিন মৃত্যুহীন, আজ আক্রান্ত ১ দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একদিনের ব্যবধানে আরো ১০ জনের মৃত্যু কুমিল্লার ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত খুঁজে বের করা হবে প্রবাসী সকল নারীই পাশবিক অত্যাচারের শিকার হয়েছে ইসরায়েলে
২৪৭

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নাগরিক স্বাধীনতার পরিপন্থী

প্রকাশিত: ৫ মার্চ ২০২১  

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দী অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই আইনটিতে কিছু পরিবর্তন আনার কথা বলেছে।

তবে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের বিশিষ্ট আইনজ্ঞরা। তাদের মতে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নাগরিকদের স্বাধীনতার পরিপন্থী। এটা মতপ্রকাশ বা বাকস্বাধীনতা খর্ব করছে এবং গণমাধ্যমের প্রতি হুমকিস্বরূপ। এ আইন মানুষের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে বিধায় অবিলম্বে তা বাতিল করা প্রয়োজন। আইনজ্ঞরা বলেন, এই আইনের একমাত্র উদ্দেশ্য মতপ্রকাশ বা বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করা। এ আইনে অভিযোগ এলেই পুলিশ মামলা নিয়ে সাথে সাথেই অভিযুক্তকে আটক করছে। এই আইনের কারণে গণমাধ্যমের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও একটা ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।

আইনবিদরা আরো বলেন, ভাবমূর্তি হানি বা ক্ষুণ্ণ করা বা অপমান করার জন্য দুনিয়ার কোথাও আইন নেই। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার কারণে অপরাধ হয়, এটা নাই। এটা গণতান্ত্রিক পৃথিবীতে নেই। তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৯ ও ৩০ এই পাঁচটি ধারা অবিলম্বে বিলোপ করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে সেই আইনে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়া সংক্রান্ত ধারা থাকতে পারে না। তা হলে সেই আইনের অপপ্রয়োগ বা অপব্যবহার হতে বাধ্য।

 

এ বিষয়ে প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, আইনমন্ত্রী বলেছেন এখন থেকে তদন্ত করে ডিজিটাল আইনে মামলা করা হবে। এতদিন ধরে ডিজিটাল আইনে ঢালাওভাবে সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করা হয়েছে। এমনকি এই আইনে আটক লেখক মুশতাক আহমেদ কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন, তার দায়ভার কে নেবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নাগরিকদের স্বাধীনতার পরিপন্থী। গণমাধ্যমের হুমকিস্বরূপ। তাই আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে বিধায় অবিলম্বে এই কালো আইন বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। রাজপথে এই আইন বাতিলের জন্য যারা দাবি জানাচ্ছেন তাদেরকে সমর্থন জানাচ্ছি।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, আইন তো জনগণের জন্যই। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কিছুটা পরিবর্তন আনা যেতে পারে। সংশোধন প্রয়োজন। এমনভাবে এই পরিবর্তন আনতে হবে যাতে রাষ্ট্রের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায়। কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ না করা হয় সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে।