পহেলা বৈশাখে সাড়ে ২১ হাজার কৃষক কার্ড দিচ্ছে সরকার
দেশের ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে সাড়ে ২১ হাজার কৃষক কার্ড দেবে সরকার।
টাঙ্গাইল সদরে পহেলা বৈশাখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন সরকারপ্রধান তারেক রহমান।
সে দিন একযোগে এসব উপজেলায় এই কার্ড কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষক কার্ড প্রণয়ন সংক্রান্ত সেলের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহারে নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য মাসিক ভাতা সম্বলিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
গত ১০ মার্চ রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এবার তিনি উদ্বোধন করবেন কৃষক কার্ড।
সরকারপ্রধানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, “আজকে এই বৈঠক হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্প উদ্বোধন করবেন।
“সারাদেশে ১১টি উপজেলায় একযোগে এই কার্ড কৃষকদের সহায়তার জন্য তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”
আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে।
এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষী ও খামারিদের দেওয়া হবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে।
“শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষককে কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশুখাদ্য ক্রয় করতে পারবেন।”
যে ১১ উপজেলায় পরীক্ষামূলক কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে, সেগুলো হচ্ছে, টাঙ্গাইলের সদর, পঞ্চগড়ের সদর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আর্দশ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজাবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজার জুড়ী।
এছাড়া বৈঠকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মো. আমিন উর রশীদ ইয়াসিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক টেলিডোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উধর্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর শনিবার বলেছিলেন, পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে ২ কোটি ২০ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়া হবে।