ব্রেকিং:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচন উপলক্ষে ১৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন.

সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৮ ১৪২৬  

সর্বশেষ:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ওয়েজবোর্ডের বিষয়টিকে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি
১৫৭

আলুর শেষ যত্নে ব্যস্ত চাষি

নিউজ ডেক্স

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০১৯  

অনুকূল আবহাওয়া ও এখন পর্যন্ত কোন ধরনের মোড়ক না থাকায় ভাল ফলনের আশা করছেন চাষিরা। এখন আলু ক্ষেতের শেষ যত্ন নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। গতবারের লোকসান থেকে বাঁচতে আলু রোপন করেছেন ব্যবসায়ী কাম চাষিরা। তবে দামে শঙ্কা কাটছে না তাদের।

গত মৌসুমে আলুতে তেমন লাভ না হওয়ায় জেলায় আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। এবারে ২৩ হাজার ৬৯৬ বিঘা (৩ হাজার ১৮৫ হেক্টর) কম জমিতে আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার ২শ’ বিঘা (৪১ হাজার ১৫৬ হেক্টর)। গতবার হয়েছিল ৩ লাখ ২৮৫ বিঘা (৪০ হাজার ৩৬১ হেক্টর)।

চলতি রবিশস্য মৌসুমে আলুর ভাল ফলনের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। মাঠে মাঠে এখন শুধু আলু গাছের সবুজ রং এর সমারহ। এ মৌসুমে ধরণের প্রাকৃতিক দূর্যোগ হানা না দেওয়ায় এবং আলু চাষের অনুক‚ল পরিবেশ থাকায় নিবির পরিচর্যা, স্থানীয় কৃষি বিভাগের যথাযথ পরামর্শ ও আবহাওয়া ভাল থাকার কারণে রোগবালাই মুক্ত আলু ক্ষেত বিরাজ করছে। প্রেক্ষিতে আলুর সবোর্চ্চ ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গ্রামীণ জনপদের প্রান্তিক কৃষকরা এবার ডায়মন্ড, কার্ডিনাল জাতের আলু বেশী করেছেন। যথা সময়ে মাঠ থেকে আলু ঘরে তুলতে পারলে এবং দাম ভাল থাকলে কৃষকের লাভ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

আলু ক্ষেতের শেষ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে মাঠজুড়ে। সেচকার্য, সারিতে মাটি তোলা, রাসায়নিক সার প্রয়োগ এবং কীটনাশক স্প্রে করছে চাষিরা। তবে সত্যিকার অর্থে লোকসান গুণতে গুণতে অর্থকরি ফসল আলুচাষ এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। এবার অনেক প্রান্তিক চাষি ব্যবসায়ীদের কাছেই লীজ দিয়েছে ক্ষেতের জমি। এ সুযোগে চাষি কাম ব্যবসায়ীরাও কমদামে লীজ নিচ্ছে এসব জমি। প্রান্তিক চাষিরা আবাদ থেকে ফিরে আসায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন- রবি মৌসুমের অর্থকরী ফসল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে আলু। জেলার কমবেশী সবকটি উপজেলায় আলুর চাষ হচ্ছে। এরমধ্যে পবা, মোহনপুর, বাগমারা, দূর্গাপুর, গোদাগাড়ি উপজেলায় ব্যাপক জমিতে আলুর ভাল ফলন হচ্ছে।

গত আলু উঠার মৌসুমে প্রান্তিক চাষিদের ব্যাপক লোকসান হয়। অনেকে আর আলু রোপণ করবে না বলে প্রতিজ্ঞা করেন। উৎপাদনকৃত আলুতে দাম না পেয়ে অনেকে সার-বীজের দাম দিতে হিমসিম খেয়েছেন। আবার লোকসানের ধকলে এবং সার-বীজ ও কীটনাশকের দোকানে বাকি পরিশোধ না করতে পেরে বাড়ি ছেড়েছিলেন।
 
গতবার আলুচাষ করেছিলেন মৌগাছি গ্রামের ফিরোজ শেখ। তিনি বলেন, গতবার আলুচাষ করে লোকসান গুনেছেন। তাই এবারে তিনি চাষ করছেন না। তার জমি লীজ নিয়েছেন আলু রোপন করছেন বাটুপাড়া গ্রামের চাষি কাম ব্যবসায়ী পারেশ আলী। আলিম শেখের মত অনেকেই এবারে আলুচাষ থেকে বিরত আছেন। এই সুযোগে হিমাগারে রাখেন এমন আলু ব্যবসায়ীরা কমদামে জমি লীজ নিচ্ছেন। এতে প্রান্তিক কৃষকরা আরো একবার ঠকছেন।

চাষি কাম আলু ব্যবসায়ী মোবারক আলী গতবছর ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। এবারো তিনি ৫০ বিঘা জমি আলু রোপন করেছেন। তিনি স্বীকার করেন গতবার উঠতি সময়ে কৃষক আলুতে লোকসান গুনেছেন। হিমাগারে যারা রেখেছেন তাদের কিছু লাভ হয়েছে। আবার কোন কোন কৃষকের বিক্রি এবং উৎপাদন খরচ সমান হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আলুচাষে প্রচুর টাকার দরকার হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পোকামাকড়সহ কান্ডপচা ও নাভিধ্বসা মোড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়। আলুচাষ একটি ঝুকিপূর্ণ আবাদ। তবে এবারে আলু চাষে আবহাওয়া অনুকুল থাকায় এবং এখন পর্যন্ত কোন ধরণের মোড়ক না থাকায় ভাল ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


অনলাইন নিউজ পোর্টাল
অনলাইন নিউজ পোর্টাল
এই বিভাগের আরো খবর