বৃহস্পতিবার ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ২৩ ১৪৩২, ১৭ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

এরদোয়ান-সিসি বৈঠক : অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর জুলাই হত্যা: আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোয় শাহবাজ শরীফকে আসিফ নজরুলের ধন্যবাদ আন্দোলনের সঙ্গীরাই এখন আমার ওপর মিসাইল ছুড়ছে: জামায়াত আমির তিন লাখ ৮০ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছেছে আধিপত্য বিস্তার: সিলেটে মহাসড়ক আটকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ খুলনায় ইসলামী আন্দোলনের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ অনিশ্চয়তা কাটল, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘বৈঠক হচ্ছেই’, আলোচ্যসূচিতে মতভেদ আর্টেমিস ২: চাঁদে মানুষের যাত্রা পিছিয়ে গেল মার্চে বাংলাদেশের অটল অবস্থান ভালো লেগেছে নাসের হুসেইনের

আন্তর্জাতিক

এরদোয়ান-সিসি বৈঠক : অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর

 আপডেট: ১৪:২৯, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এরদোয়ান-সিসি বৈঠক : অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর

বুধবার কায়রোতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তাদের মধ্যে এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা, পর্যটন, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে নতুন অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। 

একই সঙ্গে এতে ইরান, সুদান ও গাজা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশ অভিন্ন অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।

২০১৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুড-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর, প্রায় এক দশক ধরে কায়রো ও আঙ্কারার সম্পর্ক শীতল ছিল। সে সময় সিসির সঙ্গে কথা না বলার অঙ্গীকার করেছিলেন এরদোয়ান। 

তবে ২০২৩ সাল থেকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এরপর একাধিকবার বৈঠক, পারস্পরিক সফর ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুদেশের মধ্যে এক ডজনেরও বেশি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট সিসি বলেন, ‘(মিশর ও তুরস্কের মধ্যে) দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আফ্রিকা মহাদেশে তুরস্কের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে মিসরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’

এ সময় দুই দেশের মন্ত্রীরা মোট ১৮টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

গাজা যুদ্ধ বিরতির মধ্যস্থতাকারী জোটের গুরুত্বপূর্ণ দেশ মিসর ও তুরস্ক। একই সঙ্গে তারা সুদানে সেনাবাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে ক্রমশ কাছাকাছি অবস্থান গ্রহণ করছে।

সিসি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব ধাপ বাস্তবায়নের বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন এবং ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ব্যাহত করার যে কোনো ধরনের প্রচেষ্টাকে’ প্রত্যাখ্যান করেছেন। 

তিনি গাজার পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

সুদান প্রসঙ্গে সিসি বলেন, উভয় দেশই একটি “মানবিক যুদ্ধবিরতি, যা পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রূপ নেবে”— এমন সমাধান চায়।

আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু ইস্যুসহ সামগ্রিকভাবে যুদ্ধের আশঙ্কা এড়াতে কূটনৈতিক সমাধান জোরদার করা জরুরি।

এরদোয়ানও কূটনীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলের জন্য “গুরুতর ঝুঁকি” তৈরি করছে এবং ইরানসহ বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপই সবচেয়ে উপযুক্ত পথ।

এ সময় দুই নেতা সোমালিয়ার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। 

তারা সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান। 

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা অক্ষ গড়ে উঠছে।

এর আগে, ২০২৪ সালে তুরস্ক মিসরকে উন্নত ড্রোন সরবরাহে সম্মত হয় এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে ড্রোন উৎপাদনের পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে।

রিয়াদ সফর শেষে কায়রোতে পৌঁছান এরদোয়ান। তার এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ প্রথমে তুরস্কে হওয়ার কথা থাকলেও পরে তেহরানের অনুরোধে তা ওমানে স্থানান্তর করা হয়।