জাপানে বাড়ছে পর্যটকদের নামাজের সুযোগ
জাপানে মুসলিম পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটন এলাকায় নামাজের সুযোগ বৃদ্ধির চিন্তা করছে দেশটির সরকার। গত বছর জাপানে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যাদের মধ্যে মুসলিমপ্রধান অঞ্চলের অনেক পর্যটকও রয়েছে। কিন্তু দেশটির বিমান বন্দর, বিক্রয় বিপণী ও পর্যটন এলাকায় নামাজ আদায়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় মুসলিম পর্যটকরা বিব্রত হন।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া থেকে পাঁচ লাখ ৬০ হাজার, মালয়েশিয়া থেকে পাঁচ লাখ ৪০ হাজার এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে দুই লাখ ৪০ হাজার পর্যটক জাপান সফর করেছে। এসব পর্যটকদের মুসলমানের জন্য অপরিহার্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে বেগ পেতে হয়েছে। এই সমস্যা দূর করতে জাপান সরকার সহজ সমাধান খুঁজছে। সম্প্রতি জাপান ট্যুরিজম এজেন্সি মুসলিম পর্যটকদের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। যাতে হোটেল, পরিবহন স্টেশন ও বাস কেন্দ্রগুলোতে পৃথক নিরিবিলি ও পরিস্কার নামাজের স্থান নির্ধারণ করতে উত্সাহিত করা হয়েছে। আর সেটা সম্ভব না হলে পার্টশনের মাধ্যমে নামাজের স্থান নির্ধারণ এবং তা চিহ্নিত করে রাখতে বলা হয়েছে।
দেশটি আশা করছে, এর মাধ্যমে ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের কাছে জাপানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।
ইতিমধ্যে জাপানের প্রধান প্রধান বিমানবন্দর ও শহরগুলোতে নামাজ আদায়ের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেমন টোকিওর হানেদা বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে ২০১৪ সালেই নামাজের স্থান স্থাপন করা হয়। প্রতি মাসে কমপক্ষে দুই হাজার মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করে। জেআর টোকিও ও ওসাকার স্টেশনগুলোতেও নামাজের কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। কিয়েটো ও নারার মতো পর্যটন এলাকাগুলোতে স্থানীয় সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো স্টেশনগুলোর আশেপাশে নামাজের স্থান নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এরপরও জাপানের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের শিকোকু ও কাইশুর মতো শহরগুলোতে নামাজের জায়গা অপর্যাপ্ত।