বৃহস্পতিবার ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ২৩ ১৪৩২, ১৭ শা'বান ১৪৪৭

প্রযুক্তি

আর্টেমিস ২: চাঁদে মানুষের যাত্রা পিছিয়ে গেল মার্চে

 প্রকাশিত: ১৩:০৪, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আর্টেমিস ২: চাঁদে মানুষের যাত্রা পিছিয়ে গেল মার্চে

রকেটে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ায় পিছিয়ে গেছে নাসার বহুল প্রতীক্ষিত আর্টেমিস ২ মিশন। আগামী মার্চে মিশনটির সময় নির্ধারণ করেছে নাসা। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর মানববাহী চন্দ্রাভিযানের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা আরও কয়েক সপ্তাহ বাড়ল।

রয়টার্স লিখেছে, সম্প্রতি রকেটে জ্বালানি ভরার মহড়া চালানোর সময় ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ বা এসএলএস রকেটে কিছু সমস্যা ধরা পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। চারজন নভোচারীকে চাঁদের চারপাশে ঘুরিয়ে আনার এই অভিযানে এটিই সর্বশেষ বিলম্ব।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি এ মাসেই নভোচারীদের পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে ৪৯ ঘণ্টার এক কাউন্টডাউন মহড়া সফল হওয়ার ওপর এই লঞ্চ নির্ভর করছিল। সেই পরিকল্পনা অনুসারে, সবচেয়ে কাছের সময় ছিল ৮ ফেব্রুয়ারি।

নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এক বিবৃতিতে বলেছেন, “মঙ্গলবার রকেটে জ্বালানি ভরার মহড়া শেষ হওয়ার পর আমরা ফেব্রুয়ারিতে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছি। এখন আমরা আর্টেমিস ২ অভিযানের জন্য মার্চের সম্ভাব্য শুরুর দিকটাকে লক্ষ্য হিসেবে ধরেছি।”

“এসএলএস রকেট উৎক্ষেপণের মাঝে তিন বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। আমরা জানতাম কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। আর ঠিক এ কারণেই জ্বালানি ভরার এ মহড়াটির আয়োজন করি।”

‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ হচ্ছে রকেট উৎক্ষেপণের আগের চূড়ান্ত মহড়া। এতে রকেটটিতে তরল জ্বালানি পুরোপুরি ভরা হয় ও উৎক্ষেপণের জন্য কাউন্টডাউন শুরু করে, তবে বাস্তবে রকেটটি উৎক্ষেপিণ হয় না।

নাসা বলেছে, মহড়ার সময় রকেটের তরল হাইড্রোজেন জ্বালানি বড় হোস পাইপের ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে চুইয়ে পড়ছিল। পাইপটি দিয়েই এসএলএস রকেটে জ্বালানি পাম্প করে তারা।

আর্টেমিস ২ মিশনের পরিকল্পিত দলে রয়েছেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ নামের তিন মার্কিন নভোচারী এবং একজন কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।

মিশনটি হতে যাচ্ছে মহাকাশে মানুষের এযাবৎকালের দূরতম যাত্রা। সেইসঙ্গে প্রায় অর্ধশতাব্দী আগের মার্কিন ‘অ্যাপোলো প্রোগ্রাম’-এর পর এ মিশনটিই হবে প্রথম কোনো মানববাহী চন্দ্র অভিযান।

আর্টেমিস ২ হচ্ছে ২০২৮ সালে নির্ধারিত নাসার আর্টেমিস ৩ অভিযানের এক পূর্বপ্রস্তুতি মিশন। আর্টেমিস ৩ মিশনে সরাসরি চাঁদের মাটিতে নভোচারী নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সেই অভিযানেও নাসার ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ রকেট ব্যবহৃত হবে এবং এর চূড়ায় থাকবে ‘ওরিয়ন’ নভোচারী ক্যাপসুল। তবে এবারই প্রথমবারের মতো চাঁদে অবতরণের যান বা ল্যান্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হবে স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেট।