বৃহস্পতিবার ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ২৩ ১৪৩২, ১৭ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

এরদোয়ান-সিসি বৈঠক : অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর জুলাই হত্যা: আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোয় শাহবাজ শরীফকে আসিফ নজরুলের ধন্যবাদ আন্দোলনের সঙ্গীরাই এখন আমার ওপর মিসাইল ছুড়ছে: জামায়াত আমির তিন লাখ ৮০ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছেছে আধিপত্য বিস্তার: সিলেটে মহাসড়ক আটকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ খুলনায় ইসলামী আন্দোলনের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ অনিশ্চয়তা কাটল, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘বৈঠক হচ্ছেই’, আলোচ্যসূচিতে মতভেদ আর্টেমিস ২: চাঁদে মানুষের যাত্রা পিছিয়ে গেল মার্চে বাংলাদেশের অটল অবস্থান ভালো লেগেছে নাসের হুসেইনের

জাতীয়

জুলাই হত্যা: আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড

 প্রকাশিত: ১৪:১৫, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জুলাই হত্যা: আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি এবং তাদের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলার ১৬ আসামির মধ্যে সাতজনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর দুই জনের ৭ বছর করে সাজার রায় হয়েছে।

আসামিদের একজন, এসআই শেখ আবজালুল হক এ মামলায় রাজসাক্ষী হয়ে বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তাকে ক্ষমা করেছে ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ মামলার রায় ঘোষণা করে।

এ ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই বিচারক হলেন- মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সাভারের আশুলিয়া থানার সামনে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

তাতে নিহত হন সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গুলি করে হত্যার পর লাশগুলো একটি ভ্যানে স্তূপ করে রাখা হয়। এ সময় গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকেও ওই লাশের স্তূপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর ভ্যানটিতে পেট্রোল ছড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

গত বছরের ২ জুলাই এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। অভিযোগের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ জমা দেওয়া হয়। এ মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫৩ জনকে।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং তাদের হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়।

এরপর ২১ অগাস্ট এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

ওই সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করেন এসআই শেখ আবজালুল হক। রাজসাক্ষী হয়ে পরে জবানবন্দি দেন তিনি।

১৪ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পরদিন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।

প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন নিহত আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান।

২২ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি।

এর মধ্যে আসামি এসআই শেখ আবজালুল হক গত বছরের ১৯ নভেম্বর রাজসাক্ষী হিসেবে ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেন।

২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দিলেও, তার দেওয়া তথ্যের পূর্ণতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে প্রসিকিউশনের দাবি, রাজসাক্ষী হিসেবে তিনি নিজের জানা সব তথ্যই প্রকাশ করেছেন।

সাফাই সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আরেক আসামি আরাফাত হোসেন।

গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর আসামিপক্ষের নিযুক্ত ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন।

গত ২০ জানুয়ারি উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও যুক্তিখণ্ডন শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন।

সবশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন রাখে। এটি ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে ঘোষিত প্রথম রায়।

এর আগে ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দুটি মামলার রায় দিয়েছে।

এর মধ্যে গতবছরের ১৭ নভেম্বর প্রথম মামলার রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

একই মামলার অপর আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ায় তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বিতীয় মামলার রায় আসে গত ২৬ জানুয়ারি। ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।