পশ্চিম তীরে ইসরাইলি হামলায় ২ শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ নিহত ৪
দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরাইল জানিয়েছে, সেনারা সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি দেখেই গুলি চালিয়েছে।
রামাল্লাহ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তাদের দল পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় টামমুন শহরে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে গাড়িতে থাকা আহত দুই শিশু ও দুই বয়স্কের লাশ উদ্ধার করেছে।
রামাল্লাহ ভিত্তিক ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, টামমুনে দখলদার সেনারা গুলি চালানোর পর একই পরিবারের চার জন শহীদ তুর্কি পাবলিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই হামলায় নিহতরা হলেন— ৩৭ বছর বয়সী এক পুরুষ, তার ৩৫ বছর বয়সী স্ত্রী এবং পাঁচ ও সাত বছর বয়সী দুই ছেলে।
তাদের সকলের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ইসরাইলি সেনা ও পুলিশ এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, টামমুনে এক অভিযানের সময় একটি গাড়ি সেনাদের দিকে দ্রুত এগোলে, তারা তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে গুলি চালায়। ফলে গাড়িতে থাকা চার জন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
তারা উল্লেখ করেছে, ঘটনাটি বর্তমানে পুনঃমূল্যায়ন করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানায়, রোববার ভোরে ইসরাইলি বাহিনী তাদের গাড়িতে গুলি চালালে দম্পতির ৮ ও ১১ বছর বয়সী আরও দুই সন্তান বিস্ফোরণে আহত হয়।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি থেকে প্রাণঘাতী হামলার সংখ্যা বেড়েছে। মার্চ মাসে অন্তত ছয় জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এএফপি’র গণনার ভিত্তিতে, গাজার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা বা বসতি বসতি থেকে কমপক্ষে ১ হাজার ৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অসংখ্য সাধারণ নাগরিক রয়েছেন।
সরকারি ইসরাইলি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি হামলা বা ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সময় এখন পর্যন্ত সামরিক ও বেসামরিক নাগরিক নিয়ে ৪৫ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন।
পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি ৫ লক্ষাধিক ইসরাইলি বসতি ও তারা আউটপোস্টেও বসবাস করেন। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এ সব বসতি অবৈধ।