একাত্তরে তাদের কারণে মা-বোনদের সম্মান গেছে, এখনো দরদ নেই: তারেক
নারীদের প্রতি জামায়াতে ইসলামের কোনো ‘দরদ’ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলটির নাম নিয়ে তিনি বলেছেন, “আমরা দেখেছি, কীভাবে একাত্তর সালে দেশের মানুষকে রেখে তারা অন্যদিকে চলে গিয়েছিল এবং তার কারণেই এত লক্ষ লক্ষ মানুষ সেদিন শহীদ হয়েছিল। আমরা দেখেছি যে একাত্তর সালে তাদের ভূমিকার কারণে লক্ষ লক্ষ মা-বোন তাদের সম্মান হারিয়েছে।
“অবশ্য এটা তো বলে কোনো লাভ নেই; এটাই তাদের ক্যারেক্টার। এবং সেজন্যই যার নিজের দেশের প্রতি দরদ নাই—৭১ সালে প্রমাণ হয়েছে, আবার আজও প্রমাণ হলো—এই দেশের মা-বোনদের জন্য, এই দেশের নারী সমাজের জন্য এদের কোনো দরদ নাই।”
সোমবার দুপুরে যশোর উপশহরের ক্রীড়া উদ্যানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া ‘নারী বিদ্বেষী’ পোস্ট ঘিরে উত্তাপের মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যানের বক্তব্যের বড় অংশ জুড়েই নারী প্রসঙ্গ ছিল।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পরে আমরা ধরে নিয়েছিলাম বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যে দলগুলো রাজনীতি করছে, তারা জনগণের মান-মর্যাদা-সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে কথা বলবে এবং রাজনীতি করবে।
“কিন্তু আমরা কষ্টের সাথে খেয়াল করলাম যে, একটি রাজনৈতিক দল, ৫ অগাস্টের পর থেকে এই দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ মা এবং নারীদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা শুরু করল তারা। একটি রাজনৈতিক দল উঠেপড়ে লাগল কীভাবে মা-বোনদের ঘরের ভেতর আটকে রাখা যায়।”
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি যেখানে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যে, বাংলাদেশকে যদি সামনের দিকে বাড়াতে হয়, বাংলাদেশকে যদি সামনের দিকে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে সমগ্র জনগোষ্ঠীর এই যে অর্ধেক নারী সমাজ—তাদেরকে কখনো পেছনে রেখে সামনে এগোনো সম্ভব না।
“কারণ আমরা বিশ্বাস করি, দেশকে পুনর্গঠন করতে হলে, দেশকে গড়ে তুলতে হলে নারী-পুরুষ সকলকে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা গতকাল দেখেছি, এই রাজনৈতিক দলটির এই নেতাটি বাংলাদেশের প্রত্যেকটি কর্মজীবী নারী, কর্মজীবী মা, কর্মজীবী মেয়ে সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর একটি কথা বলেছে।
“প্রিয় ভাই ও বোনেরা, যারা নিজেদের দেশের মানুষকে এইভাবে আপত্তিকর বিশ্লেষণে বিশ্লেষণ করে, তাদের কাছ থেকে কি বাংলাদেশের জনগণ ভালো কিছু আশা করতে পারে? তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা সম্ভব নয়।”
শনিবার বিকালে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ওই পোস্টে বলা হয়, “নারীর প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান বিভ্রান্তিকর বা অনুশোচনামূলক নয়- এটা নীতিগত। আমরা মনে করি না- নারীদের নেতৃত্বে আসা উচিত। জামায়াতে এটা অসম্ভব। আল্লাহ এটা অনুমোদন করেন না।
“আমরা বিশ্বাস করি যে যখন মহিলাদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়, তখন এটি অন্য কিছু নয় বরং অন্য রূপে পতিতাবৃত্তির মতই।”
ওই পোস্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। প্রায় ৯ ঘণ্টা পর জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের দলীয় প্রধানের এক্স অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক করে’ ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারা আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে।
জামায়াতের ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে যশোরের জনসভায় বিএনপি নেতা তারেক বলেন, “শুধু তাই নয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এই আপত্তিকর কথা বলার পরে যখন তারা দেখল—বাংলাদেশের সকল মানুষ তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছে। তখন তারা বলল যে, তাদের অ্যাকাউন্ট বলে হ্যাক হয়ে গিয়েছিল।
“কিন্তু আমরা দেখেছি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হতে পারে না। কারণ সেই বক্তব্য দেবার পরেও তারা আরও অনেক বক্তব্য দিয়েছে, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি।
“অর্থাৎ কী দাঁড়াল? দাঁড়াল যে- তারা সমগ্র জাতির সামনে জলজ্যান্তভাবে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য মিথ্যে কথা বলছে। যারা জনগণের সামনে প্রকাশ্যে মিথ্যে কথা বলতে পারে, তারা আর যাই হোক জনগণের বন্ধু হতে পারে না।”