আমুর ৮ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
অর্থপাচারের অভিযোগ থাকায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর নামে থাকা আটটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত।
এসব হিসাবে ৭ কোটি ৫১ লাখ ৯১ হাজার ৯২৭ টাকা আছে।
সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।
সিআইডির ফাইন্যান্সসিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড অর্গানাইজড বিভাগের এসআই মো. জুলফিকার আলী এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, “মামলার অনুসন্ধান পর্যালোচনায় দেখা যায়, সন্দেহভাজন আমির হোসেন আমু ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি, দেশি বিদেশি মুদ্রা পাচার, ও চাঁদাবাজির প্রাথমিক অভিযোগ রয়েছে।”
আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানের আমুর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ৮টি হিসাব খোলার তথ্য পাওয়া যায়। এসব ব্যাংক হিসাব খোলার তারিখ থেকে এই পর্যন্ত তার নামে থাকা ৮টি ব্যাংক হিসাবে ৭ কোটি ৫১ লাখ ৯১ হাজার ৯২৭ টাকা বর্তমানে আছে।
“প্রাথমিক তদন্তে এসেছে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবগুলোয় দেশি বিদেশি মুদ্রাপাচার বা হুন্ডির অর্থ লেনদেন করা হয়েছে ও অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস আড়াল করার জন্য এসব লেনদেন করা হয়েছে।
“এ অবস্থায় অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু অনুসন্ধার করে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসব ব্যাংক হিসাবহুলোর অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা অবরূদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।”
সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর পশ্চিম ধানমন্ডি থেকে আমির হোসেন আমুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
ষাটের দশকের ছাত্রলীগ নেতা আমির হোসেন আমু ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বরিশাল থেকে প্রাদশিক পরিষদের সদস্য হয়েছিলেন।
স্বাধীনতার পর পাঁচবার এমপি হওয়া এই আওয়ামী লীগ নেতা সবশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় আমু ছিলেন বরিশাল, খুলনা, পটুয়াখালী, যশোর ও ফরিদপুর জেলার মুজিব বাহিনীর প্রধান।
১৯৭৮-১৯৮৬ সালে তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে তাকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য করে নেওয়া হয়।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আমু। দলের ২০০৯-১৪ মেয়াদের সরকারের একেবারে শেষ দিকে দপ্তর পুনর্বণ্টনে তাকে ভূমি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০১৪ সালের নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করলে আমির হোসেন আমুকে দেওয়া হয় শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
২০২০ সাল থেকে ১৪ দলের সমন্বয়ক এবং মুখপাত্র হিসেবে আমু দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।