সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ২০ ১৪৩২, ১৪ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

শবে বরাত: অন্যায়-অবিচার পরিহারের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার লুটেরাদের পেটে হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে: জামায়াত আমির একাত্তরে তাদের কারণে মা-বোনদের সম্মান গেছে, এখনো দরদ নেই: তারেক গৃহকর্মী নির্যাতন: গ্রেপ্তারের পর কারাগারে বিমানের এমডি ও স্ত্রী শেখ হাসিনার বাইরে গিয়েও ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এগোতে পারে: ফখরুল আরও বাড়ল এলপিজির দাম ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ২ জন নিহত : কর্তৃপক্ষ এরা মিথ্যাবাদী, মিথ্যাবাদীরা দেশ চালাতে পারে না: তারেক রহমান আমুর ৮ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ ববি ও রূপন্তীর প্লটের বরাদ্দ বাতিলের নির্দেশ প্লট দুর্নীতি: হাসিনা-টিউলিপের সঙ্গে এবার ববি ও রূপন্তীর সাজা ‘এনসিটি’ নিয়ে আন্দোলন: তৃতীয় দিনে ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার যাচ্ছে জেলায় জেলায় লক্ষ্মীপুর-৪: বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এলো ৩৮ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে শৈত্যপ্রবাহ, হতে পারে বজ্র ও শিলাবৃষ্টি বিশ্বকাপে খেলবে পাকিস্তান, বয়কট করবে ভারত ম্যাচ

জাতীয়

ভারতীয় মিডিয়া ও আ.লীগ প্রতিনিয়ত অপতথ্য ছড়াচ্ছে: প্রেস সচিব

 প্রকাশিত: ১৮:৫৪, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভারতীয় মিডিয়া ও আ.লীগ প্রতিনিয়ত অপতথ্য ছড়াচ্ছে: প্রেস সচিব

ভারতীয় মিডিয়া এবং আওয়ামী লীগ প্রতিনিয়ত অপতথ্য ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ভারতের অনেক পত্রিকা রয়েছে, যারা কখনোই বাংলাদেশ নিয়ে সঠিক তথ্য দেয়নি। আমরা দেখেছি আনন্দবাজারের মতো পত্রিকাও মিথ্যা তথ্য দিয়েছে; অথচ এটি ভারতের সর্বাধিক পঠিত বাংলা পত্রিকা। ভারত খুব পরিকল্পিতভাবে এই মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন ছড়াচ্ছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘পলিসি কনক্লেভ অন মিসইনফরমেশন: চ্যালেঞ্জেস টু গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক নীতিসংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় নীতিসংলাপটির আয়োজন করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতি (ডিআইইউসাস)।

প্রেস সচিব বলেন, আমরা সবাই গণতন্ত্র চাই। এর বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী কাজ করছে।

আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ আসছে মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন থেকে। ভুয়া তথ্য ছড়ানোর এই চর্চা স্থানীয় উৎসের পাশাপাশি বাইরের উৎস থেকেও হচ্ছে। গত ১৮ মাসে আমরা প্রথমবারের মতো দেখেছি, ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশ নিয়ে ভয়াবহ মাত্রার মিসইনফরমেশন ছড়াচ্ছে। বিষয়টি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের কোনো সরকার এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। তারা প্রতিদিন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে। ‘অপ ইন্ডিয়া’ নামের একটি ওয়েবসাইট নিয়মিত ঘৃণা ছড়িয়েছে। শুধু একটি ওয়েবসাইটই নয়, তাদের বড় বড় দৈনিক পত্রিকা ও টেলিভিশন স্টেশনগুলোও এতে যুক্ত। প্রশ্ন হচ্ছে-এটা কি তারা নিজেরাই করছে, নাকি এর পেছনে কেউ কলকাঠি নাড়ছে?

শফিকুল আলম আরও বলেন, আমরা একটি মসৃণ ট্রানজিশন বা ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ পালাবদল চাই।

আমরা একটি ভালো নির্বাচন করতে চাই এবং একটি গণতান্ত্রিক যুগ দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। কিন্তু বাইরে এমন একটি ইমেজ তৈরি করা হচ্ছে-গণতন্ত্র এলেও এখানে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়। ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। ভারতীয় মিডিয়া ও আওয়ামী লীগ অহরহ এসব অপতথ্য ছড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা আমাদের সরকার ও গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলছে।

গণমাধ্যমকে সত্যিকারের গণমানুষের কণ্ঠ হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায় ছিল। গণমাধ্যমের উচিত ছিল গণমানুষের কণ্ঠস্বর হওয়া, কিন্তু তা হয়নি। আজ গণমাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে এবং তীব্র জনরোষের ভয়ে ভীত থাকে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এআই যুগে আমরা নানা ধরনের বিভ্রান্তির মুখে পড়ছি। রাষ্ট্র এখনো এই বিভ্রান্তি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। গত সরকারের আমলে আমরা এক ধরনের মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচনা বা শ্রেণিকক্ষে যে কথাগুলো বলা প্রয়োজন ছিল, তা বলা সম্ভব হয়নি।

ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের গ্রহণযোগ্য কোনো মিডিয়া পলিসি নেই। কয়েক দশক আগেই একটি সুস্পষ্ট গণমাধ্যম নীতিমালা প্রয়োজন ছিল, কিন্তু এখনো আমরা শুধু পরিকল্পনার কথাই বলছি।

তিনি বলেন, বর্তমানে পুরো বিশ্ব ক্যাপিটালিজম দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, গণমাধ্যমও এর বাইরে নয়। ধর্মীয় বিষয় যেমন বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, গণমাধ্যমও তেমনি বাণিজ্যিক চাপে রয়েছে। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমকে আরও গণমুখী হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নিউজরুমে সাংবাদিকরা সংবাদ তৈরি করেন, আর সমাজের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি এমন যে, অডিয়েন্সই অনেক সময় সংবাদকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে দক্ষ সাংবাদিকের কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি ফসিহ উদ্দিন মাহতাব বলেন, একটি মিথ্যা সংবাদ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। রাজনৈতিক সরকারের আমলে সাংবাদিকরা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে তথ্যপ্রবাহের অবাধ সুযোগকে আমরা অনেক সময় অপব্যবহার করছি। এ অবস্থা থেকে বের হতে সরকারের উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম বলেন, ভুল তথ্য এখন আর শুধু যোগাযোগের সমস্যা নয়; এটি একটি কাঠামোগত সংকটে পরিণত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও দুর্বল মিডিয়া লিটারেসি—এই তিনটি মিলেই মিসইনফরমেশনকে শক্তিশালী করছে।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আইনই একমাত্র সমাধান নয়। প্রয়োজন সমন্বিত নীতি, শক্তিশালী গণমাধ্যম চর্চা এবং শিক্ষাব্যবস্থায় কার্যকরভাবে মিডিয়া লিটারেসি অন্তর্ভুক্ত করা। শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি গড়ে তুলতে পারলেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহ আলম চৌধুরী, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রধান উপদেষ্টা রাজিউর রহমান, সাবেক সভাপতি মুছা মল্লিক, বর্তমান সভাপতি কালাম মুহাম্মদসহ পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠান শেষে ২০২৫ সালের সেরা চারজন প্রতিবেদককে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এম আই পাটোয়ারী বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।