সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ২০ ১৪৩২, ১৪ শা'বান ১৪৪৭

জাতীয়

‘এনসিটি’ নিয়ে আন্দোলন: তৃতীয় দিনে ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি

 প্রকাশিত: ১৩:১৬, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘এনসিটি’ নিয়ে আন্দোলন: তৃতীয় দিনে ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি

নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওর্য়াল্ডকে’ ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের ডাকা কর্মবিরতি গড়িয়েছে তৃতীয়দিনে।

‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের’ ডাকা এ কর্মবিরতির কারণে সোমবার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন জেটি জাহাজ থেকে কন্টেইনার ও পণ্য ওঠানো নামানোসহ প্রায় সব সধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বন্দরের অভ্যন্তরে কর্ভাডভ্যান, ট্রেলার, লরি প্রবেশ বন্ধ আছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের ডাকা কর্মবিরতির কারণে বন্দরে তৃতীয়দিনের মত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বেসরকারি র্বাথ অপারেটর ফজলে একরাম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তৃতীয়দিনের মত আমরা কাজের জন্য কোন শ্রমিককে বুকিং দিতে পারিনি। জেনারেল কার্গো বাথে কর্মবিরতি চলাকালীন সময়ে কোন কাজ হচ্ছে না।”

সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খোকন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সকাল ৮টা থেকে বন্দরের অভ্যন্তরে কোথাও কোনো ‘কাজ হচ্ছে না’।

“সকলে স্বতর্স্ফূতভাবে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন।”

‘এনসিটি’ আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওর্য়াল্ডকে’ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনি ও রোববার দুইদিনে আটঘণ্টা করে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। রোববারের কর্মসূচি শেষে সোমবারেও আটঘণ্টার কর্মবিরতির ঘোষণা দে‌ওয়া হয়।

এদিকে 'এনসিটি 'ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বন্দর অভিমুখে কালোপতাকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

বেলা ১১টায় নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে স্কপের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল শুরু করেন। তাদের কর্মসূচি থেকে 'এনসিটি' ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার

দাবি জানানো হয়।

স্কপনেতা এস কে খোদা তোতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রামের সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহারস আরও অনেকে।

নগরীর বাদামতলী থেকে শুরু হয়ে কালোপতাকা মিছিলটি যমুনাভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

প্রথমদিনের কর্মবিরতির পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারী চারজনকে তাৎক্ষণিক বদলি করে। একদিনে কর্মবিরতিতে রাজস্ব ক্ষতি নিরূপণ করতে ছয় সদস্যেল একটি কমিটিও করে তারা। রোববার আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত আরও ১২জনকে বদলি করা হয়েছে।

আন্দোলনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর ও আশেপাশের এলাকায় শনিবার গভীর রাত ১২টা থেকে পরবর্তী একমাসে সকলপ্রকার সভা সমাবেশ ও মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ।