হালে পানি পেল না প্রাণের ইলিশ চাষের উদ্যোগ
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ গ্রুপ কৃত্রিম বা নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ইলিশ চাষের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে সায় দিচ্ছে না সরকার।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম বা আরএএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইনডোর, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ চাষের বিষয়ে সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন নেই। এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুমতিও দেওয়া হয়নি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই পদ্ধতিতে সামুদ্রিক মাছ চাষ সংক্রান্ত একটি সভা রোববার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার তাতে সভাপতিত্ব করেন।
সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে বলা হয়, "ইলিশ মাছ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য। দেশের নদী ও উপকূলীয় প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র, খাদ্য নিরাপত্তা, ঐতিহ্য এবং বিপুলসংখ্যক জেলে ও মৎস্যজীবীর জীবিকার সঙ্গে ইলিশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
“ইলিশের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা মূলত প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র এবং নদীনির্ভর পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ সংক্রান্ত যেকোনো উদ্যোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং নীতিনির্ভর বিষয়।”
প্রাণ-আরএফএলের সহযোগী কোম্পানি হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেড সম্প্রতি আরএএস প্রযুক্তি ব্যবহার ইলিশ, এশিয়ান সিবাস ও গ্রুপারের মত সামুদ্রিক মাছ চাষের উদ্যোগ নেয়। সেজন্য তারা ডেনমার্কের কোম্পানি এ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকেও স্বাক্ষর করে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নে যৌথভাবে দুই বছরে ৩ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করার কথাও জানানো হয় দুই কোম্পানির পক্ষ থেকে।
তাদের উদ্যোগ নিয়ে প্রকাশিত খবর বিবেচনায় নিয়েই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ওই সভা ডেকেছিল বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, “ইলিশ সংক্রান্ত যে কোনো গবেষণা, পরীক্ষামূলক উদ্যোগ বা প্রযুক্তিগত কার্যক্রম অবশ্যই বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও জাতীয় স্বার্থের আলোকে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে পরিচালিত হতে হবে।”
ইলিশ চাষের “অনুমোদনবিহীন কোনো কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়” বলেও হুঁশিয়ার করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।