দাবি না মানলে নির্বাচন ভবনের ফটক অবরোধের হুঁশিয়ারি ছাত্রদলের
'বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণসহ' বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নির্বাচন ভবনের সামনে দ্বিতীয় দিনের মত চলমান অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল।
দাবি মানা না হলে নির্বাচন ভববেন প্রধান ফটক অবরোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। তাই দাবি মেনে নিতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছেন এই এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
সোমবার বেলা ১১ টার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে জমায়েতও বাড়তে থাকে।
পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণসহ বিভিন্ন থানা পর্যায়ের সহস্রাধিক নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের এই কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও নেতৃত্বে আছেন।
দুপুরে রাকিব বলেন, "আমাদের দাবি আদায় হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা এই ভবন ছেড়ে যাব না। দাবি যতক্ষণ পর্যন্ত আদায় না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত, এমনকি রাত অবধি আমরা এখানে অবস্থান গ্রহণ করব।
"যদি এভাবে দিনের পর দিন আমাদের দাবি মানা না হয়, এই নির্বাচন কমিশনের মূল গেট অবরোধ করতে আমরা বাধ্য হব।"
তাই 'কঠোর কর্মসূচি' দিতে বাধ্য না করে 'দয়া করে' নির্বাচন কমিশনকে দাবি মেনে নিতে অনুরোধ করেন।
"আমাদেরকে কঠোরভাবে আরো কর্মসূচি পালনে আপনারা বাধ্য করবেন না।আপনারা দয়া করে আমাদের যে যৌক্তিক দাবি পূরণের যে আশ্বাস দিয়েছেন, তার প্রতিফলন আমরা দেখতে চাই।"
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দাবির বিষয়ে রোববার ছাত্রদলের বৈঠকের বিষয়টি তুলে ধরে রাকিব বলেন, "শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিনবার চিঠি ইস্যু করা হয়েছে, এ বিষয়ে তারা কেউ অবগত নয়। তারা শুধু একটি চিঠির বিষয়ে অবগত, যে চিঠির মাধ্যমে তারা এই সকল নির্বাচন বন্ধ ঘোষণা করেছিল।
"পরবর্তীতে যা কিছু হয়েছে সবকিছু একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল এবং একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠন, তারা সরাসরি এসে বারবার সাক্ষাৎ করে জোরপূর্বকভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি ক্রিয়েট করেছে।"
ছাত্রদল কোনো 'অস্থির পরিবেশ চায় না' মন্তব্য করে রাকিব বলেন, "যেহেতু এখান থেকে তিনটি চিঠি ইস্যু করার কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি ক্রিয়েট হয়েছে, সেহেতু এর পুরোপুরি দায়ভার এই নির্বাচন কমিশনের। সেহেতু তাদেরকে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।
"আমরা অপেক্ষা করছি তারা অচিরে আমাদের সেই সিদ্ধান্ত জানাবে এবং সিদ্ধান্ত অবশ্যই তাদেরকে জানাতে হবে। আমরা দুপুরের পর এর সেই মূল্যায়ন দেখে পরবর্তী ভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করব। সেই ভিন্ন কর্মসূচি অবশ্যই কঠোর থেকে কঠোরতর হবে এবং আমরা দাবি আদায় করেই এখান থেকে যাব।”
তবে বেলা পৌনে দুইটার দিকে সভাপতি রাকিব বলেন, তারা খবর পেয়েছেন আদালত শাকসু নির্বাচন স্থগিত করেছে।
তিনি বলেন, "আমাদের যে আরো অভিযোগগুলো রয়েছে, সেই অভিযোগের বিষয়ে সুরাহা করে তারপর এখান থেকে আমরা যাব। আমরা আমাদের দাবি সবগুলো আদায় করে, অভিযোগগুলোর যৌক্তিক সমাধান করে যাব।"
তার ভাষ্য, যৌক্তিক বিষয়গুলো প্রসঙ্গে তারা (ইসি) অবহিত করবেন। তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সে পর্যন্ত সবাইকে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
পূর্ব নির্ধারিত দ্বিতীয় দিনের ‘নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি’ পালন করতে এসে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা নির্বাচন ভবনের সামনের সড়কে বসে পড়েন।
এর মধ্যে একটি অংশ নির্বাচন ভবনের সামনের সড়কে দেওয়া পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে ও বিপরীত পাশের সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া, কয়েকটি গ্রুপকে সড়কে ঘুরে ঘুরে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
দিকে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, "গতকাল আমরা তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে প্রায় ১০ ঘন্টারও অধিক সময় শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছি।"
আসন্ন 'কাঙ্খিত' জাতীয় নির্বাচনের আগে পোস্টাল ব্যালট জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে দেখা যাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, "আমরা মনে করি এই ঘটনা আমাদেরকে ২০১৮ সালের সেই কলঙ্কিত নিশিরাতের নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। সেই কথা নির্বাচন কমিশনকে আমরা বলে এসেছি।
"নির্বাচন কমিশন স্বীকার করেছে যে, পোষ্টাল ব্যালটের বিষয়ে যে অনিয়ম হয়েছে তারা সেই অনিয়মগুলো দূর করবে। কিন্তু কিভাবে জামায়াতে ইসলামী এবং শিবিরের বাড়িতে পোস্টাল ব্যালট গিয়েছে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোন সদুত্তর আমাদেরকে দিতে পারেনি।"
ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের নির্বাচনকে সামনে রেখে দুইটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে 'ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে' মন্তব্য করে তিনি বলেন, "আমরা দেখলাম আসিফ মাহমুদ এখন নির্বাচন কমিশনে এসে নির্বাচন কমিশনকে চোখ রাঙ্গানি দেন, জুলাই-অগস্টের বয়ান শোনান।
"আমরা আসিফ মাহমুদকে হুঁশিয়ারি করে দিতে বলে দিতে চাই, জুলাই অগাস্টে আপনি ভূমিকা রেখেছেন, আপনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, এটি যেরকম সত্য। তার পরবর্তী সময়ে আপনি উপদেষ্টা হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন এটাও বাংলাদেশের মানুষ জানে। আপনি চোখ রাঙ্গানি দিবেন না। চোখ রাঙানি দিয়ে কথা বলবেন না। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান।"
ইসির কাছে ছাত্রদলের যে ৩ অভিযোগ-
১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।