দ্বিতীয় দিনের মত ইসির সামনে ছাত্রদলের অবস্থান
'বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণসহ' বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নির্বাচন ভবনের সামনে দ্বিতীয় দিনের মত অবস্থান নিয়েছে ছাত্রদল।
সোমবার বেলা ১১ টার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে বাড়তে থাকে জমায়েত।
এ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণসহ বিভিন্ন থানা পর্যায়ের ৫ শতাধিক নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।
পূর্ব নির্ধারিত ‘নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি’ পালন করতে এসে এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা নির্বাচন ভবনের সামনের সড়কে বসে পড়েন।
এর মধ্যে একটি অংশ নির্বাচন ভবনের সামনের সড়কে দেওয়া পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে ও বিপরীত পাশের সড়কে অবস্থান নিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
রোববার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দিনভর নির্বাচন ভবনের সামনে অবস্থান চালিয়ে যান। পরদিনও অবস্থান চালানোর ঘোষণা দিয়ে রাতে এলাকা ছাড়েন তারা।
রাতে সাংবাদিকদের সামনে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছিলেন, "আমরা আমাদের আজকের এই অবরোধ কর্মসূচি এখানে সমাপ্ত করব। ঘেরাও কর্মসূচি এখানে সমাপ্ত করব। আমরা আগামীকাল আবারো ১১টা থেকে আমাদের এই ঘেরাও কর্মসূচি শুরু করব। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি আদায় না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের এই ঘেরাও কর্মসূচি অব্যাহত রাখবো।"
তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের এই 'শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি' চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
ছাত্রদলের ৩ অভিযোগ-
১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।