বৃহস্পতিবার ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ২৩ ১৪৩২, ১৭ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

পল্লবীর বিহারী ক্যাম্পে ২ শিশুসহ এক পরিবারের ৪ জনের লাশ পোস্টাল ভোটের ফল আগেভাগে জানার সুযোগ নেই: ইসি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা শুক্রবার এরদোয়ান-সিসি বৈঠক : অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর জুলাই হত্যা: আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোয় শাহবাজ শরীফকে আসিফ নজরুলের ধন্যবাদ আন্দোলনের সঙ্গীরাই এখন আমার ওপর মিসাইল ছুড়ছে: জামায়াত আমির তিন লাখ ৮০ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছেছে আধিপত্য বিস্তার: সিলেটে মহাসড়ক আটকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ খুলনায় ইসলামী আন্দোলনের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ অনিশ্চয়তা কাটল, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘বৈঠক হচ্ছেই’, আলোচ্যসূচিতে মতভেদ আর্টেমিস ২: চাঁদে মানুষের যাত্রা পিছিয়ে গেল মার্চে বাংলাদেশের অটল অবস্থান ভালো লেগেছে নাসের হুসেইনের

রাজনীতি

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বাকৃবির শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

 প্রকাশিত: ১৫:০৮, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বাকৃবির শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসন আমলে ভোটাধিকার সংকুচিত থাকার পর বাংলাদেশ আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে। এ যেন জাতিকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি হয়ে উঠেছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ ভোটারদের কাছে এই নির্বাচন মানে জীবনের প্রথম ভোট, প্রথম প্রত্যাশা এবং প্রথম স্বপ্নের প্রকাশ।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন তরুণ শিক্ষার্থী তাদের ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা জানান।

বাকৃবির শিক্ষার্থী মেজবাউল হক বলেন, আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের গুম, খুন এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচারের শাসন আমলে এই ভোটের অধিকার ছিলো না। ২০১৪ সালে ১৫৪ টা সিটে প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালে ডামির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলে সেসময় আমরা তরুণরা ভোট দিতে পারি নি। আমরা বিশ্বাস করি আগামীর নির্বাচনে তরুণ সমাজ বাংলাদেশপন্থী দলকে ভোট দিবে।

২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্যাটার্ন বদলে গেছে। আমরা একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণমুখী রেইনবো রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি। যেখানে রাজনীবিদগণ রাজনীতি করবেন সাধারণ মানুষের জন্য, বৈষম্যহীন সমাজ কাঠামো নির্মাণের জন্য এবং দুর্নীতিহীন সমাজব্যবস্থা নির্মাণের জন্য।

নির্বাচনে অবশ্যই সহিংসতা যেন না হয় সেদিকে আমাদের সকল রাজনৈতিক দলকেই খেয়াল রাখতে হবে। দেশটা আমাদের সকলের, তাই সবাইকে নিয়েই এই দেশটা নতুন করে গড়তে হবে। আমরা প্রত্যাশা রাখি আগামী দিনের রাজনীতি হবে জনগণের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য এবং পলিসি নির্ভর।

এজন্য জাতীয়তাবাদী শক্তি বিএনপির পরিকল্পনাগুলো যদি মাঠ পর্যায়ে ৫০ ভাগও বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে দেশ অনেকদূর এগিয়ে যাবে। আর আমরা যারা জুলাই ২৪ এ নেতৃত্ব দিয়েছি সেই জুলাইয়ের সকল পক্ষের উচিৎ হবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে যেন ‘হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দেই।

বাকৃবির শিক্ষার্থী মাস্টার্স, একুয়াকালচার ও কৃষিবিদ মারুফ বিল্লাহর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হোক অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও অবাধ। আশাকরি মানুষ এবার আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এবারের নির্বাচন হবে আজাদী ও সংস্কারে নির্বাচন ইনশাআল্লাহ।

আমি চাই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এমন এক বাংলাদেশ তৈরি করুক যেখানে থাকবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। সংস্কারের জন্য মানুষকে সংসদ সদস্যের পিছেনে ঘুরতে হবেনা, বরঞ্চ উনারাই সাধারণ মানুষদের নিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করে সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। 

আমি চাই ডাইনামিক, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসুক। শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য ও বেকারত্ব দূরীকরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করবেন প্রতিনিধিরা। থাকবে না কোন চাঁদাবাজি, ছিনতাই আর মাদকের দৌরাত্ম্য।

এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে কৃষক খামারি তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন। সকল ধরনের অবৈধ সিন্ডিকেট দূর হবে। এদেশের সকল ধর্মের মানুষ তার নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন। দেশের আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করবেন। প্রতিটি মানুষ যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারেন এমন একটি সোনার বাংলাদেশ আশা করি।

বাকৃবির মাস্টার্স শিক্ষার্থী সজীব দাস নির্বাচন নিয়ে তিনি তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল একটি সরকার পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়, এটি হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্র, জনগণের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের দিকনির্দেশ নির্ধারণের লড়াই। আমি মনে করি, নির্বাচন তখনই অর্থবহ হয় যখন তা জনগণের প্রকৃত মতামতকে প্রতিফলিত করে।

আসন্ন নির্বাচনে প্রত্যাশা থাকবে যেন জনগণ নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন যেন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে। জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে।

আমি নির্বাচন পরবর্তী এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে, শ্রমিক পাবে বাঁচার মতো মজুরি এবং উৎপাদনের ওপর থাকবে জনগণের নিয়ন্ত্রণ। থাকবে না কর্পোরেট লুটেরাদের দৌরাত্ম। নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা হবে গণমুখী ও বৈষম্যহীন।

সব শেষে বলবো বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্তচিন্তার কেন্দ্র, পুলিশি দমন-পীড়নের জায়গা নয়। প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শাসকগোষ্ঠীর হাতিয়ার না বানিয়ে জনগণের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থী কাউসার আহমেদ মিজানের সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটা উৎসবমুখর পরিবেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশের এই শুভক্ষণে আপামর জনতার মত আমিও খুবই আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে কখন জীবনের প্রথম ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দিবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আর তরুণ ভোটার হিসেবে আমার চাওয়া হবে দেশকে যারা ইনসাফভিত্তিক, বৈষম্যমুক্ত আর কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে তারাই যেনো ক্ষমতায় যেতে পারে।

তরুণদের যারা জনশক্তিতে পরিণত করে কাজের ব্যবস্থা করতে পারবে এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান করতে পারবে এমন কর্মমুখী ইশতেহার যারা দিয়েছে এবং বাস্তবায়নের সৎ ইচ্ছা আছে এমন দলই আমাদের মত তরুণদের ভোট পাবে বলে মনে করি। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণদের আকৃষ্ট করবে তখনই, যুগোপযোগী নির্বাচনী ইশতেহার যেখানে বাকস্বাধীনতা থাকবে, আধুনিক শিক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচনে সুস্পষ্ট নীতিমালা ইত্যাদি।

বিশাল এই কৃষির ওপর নির্ভরশীল জনপদের জন্য যে দল কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপদ কৃষি উদপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, তারাই যেনো ক্ষমতায় আসে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এমন দল ক্ষমতায় আসুক যারা অপরাধীর জাত, ধর্ম, বর্ণ এবং দল না দেখে যথাযথ বিচার করবেন।