ট্রাম্পের বিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের ইস্পাহান জ্বালানিকেন্দ্রে হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে আগামী পাঁচ দিন কোনও হামলা চালানো হবে না।
কিন্তু সেই বিরতি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের ইস্পাহান এবং খোররামশহর নামের আরেকটি নগরীর জ্বালানিকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চালানোর খবর এসেছে ইরানি গণমাধ্যমে।
ইরানের আধাসরকারি ফারস বার্তা সংস্থা মঙ্গলবার জানায়, ইস্পাহানের উত্তরাঞ্চলীয় কাভেহ সড়কে একটি গ্যাস স্থাপনা ভবন এবং গ্যাস প্রেসার রিডাকশন স্টেশনে হামলা হয়েছে।
এতে গ্যাসকেন্দ্রটির ক্ষয়ক্ষতি হওয়া ছাড়াও আশপাশে বসতি এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ওদিকে, খোররামশহরের বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি গ্যাস পাইপলাইন স্টেশনের বাইরের এলাকায় প্রজেক্টইল আঘাত হেনেছে বলে নগরীর গভর্নরের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ফারস বার্তা সংস্থা।
হামলার আগে থেকে পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার করণে জ্বালানিকেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেছে বলে জানানো হয়েছে খবরে।
ইরানের দুই নগরীতে হামলা ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল কেউই এই হামলার সরাসরি দায় স্বীকার করেনি। হামলা নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যই অসঙ্গতিপূর্ণ এবং পরষ্পরবিরোধী।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তার পরই তিনি ঘোষণা করেন, আগামী পাঁচ দিন ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বলানিকেন্দ্রগুলোতে হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি।
হরমুজ় প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বলানিকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ৪৮ ঘণ্টা সময়ও বেঁধে দেন। সোমবার সেই সময়সীমা শেষ হয়।
তারপরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আপাতত হামলা বন্ধ থাকবে। তবে ট্রাম্পের এই আলোচনা চলার দাবির পরই ইরান পাল্টা দাবি করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনও আলোচনাই হয়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।