ভেনেজুয়েলায় আরও হামলা হতে পারে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র যা চায়, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার যদি সে অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেয় তাহলে দেশটিতে আবারও হামলা চালানোর সম্ভাবনা আছে বলে হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার ভেনেজুয়েলার স্থানীয় সময় ভোররাতে দেশটিতে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। এখন নিউ ইয়র্কের আটক কেন্দ্রে থাকা মাদুরোকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে শুনানির জন্য হাজির করা হবে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
ট্রাম্প রোববার সাংবাদিকদের বলেছেন, ভেনেজুয়েলা তাদের তেল শিল্প উন্মুক্ত করা ও মাদক পাচার বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা না করলে তিনি দেশটিতে আরেকটি হামলা চালানোর আদেশ দিতে পারেন।
তিনি কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর বিরুদ্ধেও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন আর বলেছেন, কিউবার কমিউনিস্ট শাসন ‘নিজে থেকেই পতনের জন্য প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে’।
রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের এ মন্তব্যের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সোমবার মাদুরোকে নিউ ইয়র্কের একজন ফেডারেল বিচারকের মুখোমুখি করার কথা। মাদুরোকে ধরে নিয়ে আসার পর থেকে ভেনেজুয়েলা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাদুরোকে ধরে নিয়ে আসার ব্যাখ্যায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালে মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস ষড়যন্ত্রসহ বেশ কিছু অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়, সেইসব ফৌজদারি অভিযোগের জবাবদিহি করার জন্যই আইনি পদক্ষেপ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে আনা হয়েছে।
মাদুরো (৬৩) কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন। তার বিচার শুরু হতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
কিন্তু ট্রাম্প নিজে এ ক্ষেত্রে অন্যান্য বিষয়ের ভূমিকা থাকার কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযান চালানোর অংশত কারণ হচ্ছে ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রমুখি অভিবাসীদের ঢল ও কয়েক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে দেশটির তেল সম্পদ রাষ্ট্রায়ত্ত করার সিদ্ধান্ত।
রোববার ফ্লোরিডা থেকে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেরার সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, “তারা যা চুরি করেছে আমরা তা ফেরত নিচ্ছি।”
তিনি জানান, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় ফিরবে তারপর দেশটির পেট্রলিয়াম শিল্প পুনর্নির্মাণ করবে।
তিনি বলেন, “তারা শত শত কোটি ডলার ব্যয় করতে যাচ্ছে আর তারা ভূগর্ভ থেকে তেল উত্তোলন করবে।”
এদিকে মাদুরো না থাকলেও তার ঘনিষ্ঠ মিত্ররাই ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় আছেন আর তারা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করে যাচ্ছেন।
দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মাদুরোই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট আছেন।
রদ্রিগেস যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছেন বলে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, কিন্তু ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রধান তা বাতিল করে দিয়েছেন। রদ্রিগেস একসময় ভেনেজুয়েলার তেলমন্ত্রীও ছিলেন। তাকে মাদুরোর ইনার সার্কেলের সবচেয়ে বাস্তববাদী সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।