রোববার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ৯ ১৪৩২, ০৫ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

গণমাধ্যমের অভিভাবক হওয়ার দায়িত্ব আমার: তথ্যমন্ত্রী মোংলা-খুলনা রেলপথে একাধিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: মন্ত্রী নাগরিক কমিটিকে সম্পৃক্ত করে টিসিবির কার্যক্রম স্বচ্ছ করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় গ্যাস লরির সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৫ তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিন: বৃক্ষরোপণ ও ডাকটিকিট অবমুক্ত ছুটির দিনে প্রথমবার তেজগাঁওয়ে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’-এর শপথের কোনো প্রয়োজন নেই: পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রুমিন ইরানে সীমিত আকারে হামলা হতে পারে, জানালেন ট্রাম্প আদালতের তিরস্কারের পর ট্রাম্পের ১০% শুল্ক ঘোষণা ইতিহাসে প্রথমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জামায়াত আমিরের শ্রদ্ধা একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা দেশজুড়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ, মানুষের ঢল মৌলভীবাজারে পিকআপ-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৩ প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন নৌযানে মার্কিন হামলায় নিহত ৩

স্বাস্থ্য

শীতে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ: সতর্ক থাকার পরামর্শ

 প্রকাশিত: ১৪:২৭, ৫ জানুয়ারি ২০২৬

শীতে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ: সতর্ক থাকার পরামর্শ

কয়েক দিন ধরে পুরো দেশেই জেঁকে বসেছে শীত। পৌষের শুরু থেকেই সারা দেশে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। শীতের দাপটে একইসঙ্গে রাজধানীসহ সারা দেশে বেড়েছে শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রাদুর্ভাব। ঠান্ডাজনিত রোগে কাবু হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। 

রাজধানীর মুগদা হাসপাতাল, শ্যামলী শিশু হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শীতজনিত কারণে নতুন রোগীর চাপ বেড়েছে। নিয়মিত যেসব রোগী থাকে শীতের প্রকোপে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দ্বিগুণে। আর যেসব রোগী আসছে, তাদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধ এবং বক্ষব্যাধিজনিত রোগীর উপস্থিতি বেশি। 

চিকিৎসকদের মতে, এ সময় প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং অ্যালার্জিজনিত জটিলতা এখন শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা জ্বর,  ঠান্ডা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কাদের বাসসকে জানান, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি। এছাড়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু শিশু এই মুহূর্তে ভর্তি আছে। শীতের প্রকোপ বাড়লে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায় বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে একটি শয্যাও খালি নেই। প্রতিদিন বহির্বিভাগে শত শত শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে। 

শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতে শিশুদের ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগ দেখা দেয়। চলতি বছরে তীব্র শীতের কারণে দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে  ঠান্ডাজনিত রোগ। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা বেশির ভাগই শিশু। বাচ্চারা শ্বাসতন্ত্রের নানা ধরনের সংক্রমণ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। বাচ্চাদের অ্যাজমাও বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু শ্বাসতন্ত্র (পালমোনোলজি) বিভাগের অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার সরকার বলেন, শীতকালে শিশুদের মধ্যে ফ্লু, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ সময়ে অভিভাবকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না। কারণ শীতকালের বেশিরভাগ রোগই ভাইরাসজনিত। শিশুর জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 

তিনি বলেন, নিয়মিত গোসল প্রয়োজন হলেও অপরিণত নবজাতকদের ক্ষেত্রে দেরিতে ও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গোসল করাতে হবে, যাতে  ঠান্ডা না লাগে। বাচ্চাদের সব সময় গরম রাখতে হবে। 

এদিকে রাজধানীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর চাপে কোথাও বসার জায়গা নেই। কেউ দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে, কেউ মেঝেতে শুয়ে। সাধারণ সময়ের চেয়ে রোগীর চাপ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে। অনেক রোগীর ভর্তির প্রয়োজন হলেও শয্যাসংকটে তা সম্ভব হচ্ছে না। 

হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁঞা জানান, শ্বাসনালির সমস্যায় আসা রোগীদের বড় অংশ অ্যাজমা, নিউমোনিয়া ও ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত। সারা দেশে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এই ধরনের রোগী বাড়ছে। সাধারণ সময়ের চেয়ে রোগীর চাপ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে। এখানে শিশু রোগীর সংখ্যা খুব কম। বেশির ভাগ মধ্যবয়সী ও বয়স্করা আসে চিকিৎসার জন্য।