পুতিনকে ‘যুদ্ধের দাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল শনিবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে এক ভাষণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে ‘যুদ্ধের দাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার আক্রমণের ফলে দেশের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বর্তমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক ছাড় বা ভূখণ্ড হস্তান্তরের ধারণাকে ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তির সাথে তুলনা করেছেন।
তিনি সতর্ক করেছেন যে, হিটলারের মতো পুতিনকে ছাড় দিলে, তা শান্তি আনবে না, বরং এটি আরও আগ্রাসনকে উসকে দেবে।
হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক বছর আগে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর কাছ থেকে আঞ্চলিক ছাড় জোর করে আদায় করেছিলেন।
জেলেনস্কি মস্কোর আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে এই বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, মস্কো হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে এবং পূর্ব ইউক্রেনকে ধ্বংস করেছে। তারা লাখ লাখ মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে।
কিয়েভ ও এর পশ্চিমা মিত্ররা অভিযোগ করেছে যে, মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিডে আক্রমণ করে ব্যাপক ক্ষতি করেছে এবং এর মাধ্যমে তারা জনসাধারনকে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে কষ্ট দিচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনে এমন একটিও বিদ্যুৎ কেন্দ্রও অবশিষ্ট নেই, যা রাশিয়ার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।’
তিনি হাজার হাজার কর্মীর প্ল্যান্ট মেরামতের প্রশংসা করেন এবং বলেন আমরা এখনও বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি।
তিনি আবারও পশ্চিমাদের কাছে ইউক্রেনে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সরবরাহ করার আহ্বান জানান।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু করা পুতিন সম্পর্কে জেলেনস্কি বলেন, ‘তিনি নিজেকে রুশ সম্রাট হিসেবে ভাবতে পারেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি যুদ্ধের দাস।’
রাশিয়া ও ইউক্রেন আগামী সপ্তাহে মার্কিন-মধ্যস্থতায় আলোচনা করবে এবং জেলেনস্কি বলেছেন যে যুদ্ধ শেষ করার জন্য কিয়েভ ‘সবকিছু’ করছে।