রোববার ০৮ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ২৪ ১৪৩২, ১৯ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

হরমুজ প্রণালি ছেড়ে আসা ১২ জাহাজ চট্টগ্রামে সীমিতভাবে মধ্যপ্রাচ্য ফ্লাইট চালু ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে মগবাজারে পদযাত্রা, চানখারপুলে দুজন আটক ছুটির দিনেও কার্যালয়ে ব্যস্ত সময় পার করলেন প্রধানমন্ত্রী খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই: মন্ত্রী হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে মন্ত্রী, নেই অর্ধেক চিকিৎসক মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ দিনে ঢাকা থেকে বাতিল ২৬৮ ফ্লাইট ইরানে স্থল অভিযানে নামার আভাস কুর্দি সংগঠনের যুদ্ধ গড়াল দ্বিতীয় সপ্তাহে, ট্রাম্প চান ইরানের `নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ` ইরানে ভয়াবহ বিমান হামলা: নিহত ১৩০০ ছাড়ানোর আশঙ্কা রাতভর ৮০ যুদ্ধবিমান থেকে ইরানে গোলাবর্ষণ এবার তেহরানে প্রাইমারি স্কুলে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা রাতে ইরানে ‘সবচেয়ে বেশি বোমাবর্ষণ’ হবে, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি বন্ধে বাড়ছে তেলের মূল্য বৃদ্ধির শঙ্কা

 প্রকাশিত: ১৭:১২, ৩ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালি বন্ধে বাড়ছে তেলের মূল্য বৃদ্ধির শঙ্কা

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রণালি বন্ধের ঘটনা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতার কারণ হয়ে তেলের মূল্য অস্বাভাবিকরকম বাড়িয়ে তুলতে পারে।

বিশ্বে ব্যবহৃত জ্বালানির এক পঞ্চমাংশ জাহাজযোগে এই প্রণালি হয়ে যায়। এর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গ্যাসও এই জলপথ দিয়েই বিভিন্ন গন্তব্যে সরবরাহ করা হয়। ইরান এই অঞ্চলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোতে হামলা শুরু করায় এ পথে সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

সোমবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক কমান্ডার বলেছেন, প্রণালিটি ‘বন্ধ’ আর যদি কোনো জাহাজ এই জলপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে তবে সেটি জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।

ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এ সঙ্কীর্ণ জলপথে ইতোমধ্যে অন্তত পাঁচটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও দুইজন নিহত হয়েছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশে প্রায় ১৫০টি জাহাজ এখন আটকা পড়ে আছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার ব্যারেল প্রতি তেলের মূল্য ছিল ৭৩ ডলার। শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর সোমবার তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৯ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়ায়।

সমুদ্র বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ‘উইন্ডওয়ার্ড’ এর জ্যেষ্ঠ সামুদ্রিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষক মিশেল বকম্যান আল জাজিরাকে বলেন, “প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল অন্তত ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ওই অঞ্চলে পণ্যবাহী জাহাজের খরচ ‘অনেক বেড়ে যাচ্ছে’ আর এই নিয়ে ইতোমধ্যে জাহাজ শিল্প চাপে পড়েছে।

মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স ও নিরাপত্তা পরিষেবা ‘কন্ট্রোল রিস্কস’ এর পরিচালক করম্যাক ম্যাকগ্যারি জানান, শনিবার নাবিকরা ‘প্রণালিটি বন্ধ আছে’ বলে ইরানের কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছে।

“ওই এলাকায় থাকা প্রত্যেকটি জাহাজ এটি শুনে থাকবে আর অধিকাংশ জাহাজ থামিয়ে দেওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট,” বলেন তিনি।

জাহাজ চলাচল অনুসরণ করা পরিষেবা কেপলার দেখিয়েছে, রোববার ওই প্রণালি দিয়ে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে আর যেগুলো চলেছে তার অধিকাংশই ইরান বা তাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার চীনের পতাকাবাহী।

বকম্যান জানান, এটা সম্ভব যে কিছু জাহাজ শনাক্তকরণ এড়াতে সম্ভবত তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ সিস্টেমের সুইচ বন্ধ করে প্রণালিটি পার হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা অপরিশোধিত তেলের অধিকাংশই যায় এশিয়ার চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায়। এটি এই পথে সরবরাহ করা তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন।

তেলের পাশাপাশি এই জলপথে জেট ফুয়েল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও (এলএনজি) সরবরাহ করা হয়। ইউরোপের প্রায় ৩০ শতাংশ জেট ফুয়েল আর বৈশ্বিক এলএনজি চাহিদার এক পঞ্চমাংশ এই পথে সরবরাহ হয়।

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর আর নির্ভরশীল না হলেও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির চাপ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের উপরও পড়তে শুরু করবে। ফলে এই অস্থিরতা থেকে তারাও রেহাই পাবে না।

কোম্পানিগুলো ঘুরে পথে জাহাজ চালাতে বাধ্য হলে সরবরাহের সময় বেশি লাগবে আর তাতে খরচও বাড়বে।

আমেরিকান অর্থনীতিবিদ ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক রেইচেল জিম্বা জানান, বেশি জ্বালানি উৎপাদন করায় দাম বাড়লে মার্কিন উৎপাদকরা লাভবান হবে কিন্তু ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, “ভোক্তা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিন্তু উৎপাদকরা লাভবান হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল: কতোদিন ধরে এটা চলবে?”