রোববার ২২ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ৮ ১৪৩২, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

হরমুজ অবরোধ খুলতে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘নিশ্চিহ্ন করার’ হুমকি ট্রাম্পের

 প্রকাশিত: ১১:৪৫, ২২ মার্চ ২০২৬

হরমুজ অবরোধ খুলতে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘নিশ্চিহ্ন করার’ হুমকি ট্রাম্পের

তেহরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানানোর একদিন পর শনিবার যুদ্ধের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “এই মুহূর্ত থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি কোনো হুমকি ছাড়াই ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি না খুলে দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানবে এবং নিশ্চিহ্ন করে দেবে, প্রথমে সবচেয়ে বড়টা দিয়ে শুরু করা হবে!”

রয়টার্স লিখেছে, ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ইরানের অবকাঠামোতে মার্কিন হামলার পরিধি আরও প্রসারিত করে তুলতে পারে যা ইতোমধ্যেই বেসামরিকদের দৈনন্দিন জীবনে দুর্ভোগ বয়ে এনেছে।

পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ জলপথ। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হয়। ইরানের হামলার হুমকির কারণে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে আছে আর এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেল-গ্যাসের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইরানের খাতাম আল আনবিয়া সামরিক কমান্ড সদরদপ্তর রোববার বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায় তাহলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, তথ্য প্রযুক্তি ও ডিস্যালিনাইজেশন অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।

ট্রাম্প ও তার প্রশাসন চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানো যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নিয়ে মিশ্র বার্তা দিয়ে চলছে আর তাতে ওয়াশিংটনের মিত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সবচেয়ে আকস্মিক পরিবর্তনের ঘটনাটি ঘটেছে ইরানকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। ইরানে অভিযান ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আঘাত হানার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিলেন তিনি।

ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে তেহরানের কাছে দামাভান্দ পাওয়ার প্লান্টের ক্ষমতা ২৮৬৮ মেগাওয়াট, দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরমান প্লান্টের ক্ষমতা ১৯১০ মেগাওয়াট আর খুজেস্তান প্রদেশের রামিন তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষমতা ১৮৯০ মেগাওয়াট। আর দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহরের ক্ষমতা ১০০০ মেগাওয়াট।

চলতি মাসের প্রথমদিকে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিড ধ্বংস করে দেওয়ার ধারণা উত্থাপন করেছিলেন। ১১ মার্চ তিনি বলেছিলেন, “আমরা এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের বিদ্যুৎ সক্ষমতা ধ্বংস করে দিতে পারি আর তা পুনর্নির্মাণ করতে তাদের ২৫ বছর লাগবে। তবে আদর্শগতভাবে আমরা তা করতে যাচ্ছি না।”